ওরস ও ক্বাওয়ালী কি?

0

 = ওরস ও ক্বাওয়ালী =

প্রশ্ন: ওরসে ঢোল ও সারঙ্গীর সাথে ক্বাওয়ালীর বিধান কি এবং তাতে যারা হাযির হয়, তারা গুনাহ্গার কিনা?

জবাবঃ এমন ক্বাওয়ালী হারাম এবং তাতে যারা হাযির হয় তারা সবাই গুনাহ্গার। তাদের সবার গুনাহ্ এ ধরনের ওরসের আয়োজক ও ক্বাওয়ালদের উপর বর্তায়। আর ক্বাওয়ালদের গুনাহ্ ওরস আয়োজনকারীদের দায়িত্বে বর্তানোর পর ক্বাওয়ালদের গুনাহ্ সামান্যটুকুও হ্রাস পাবে না।

অনুরূপ, ওরস আয়োজনকারী ও ক্বাওয়ালদের উপর, যারা উপস্তিত হয়েছে তাদের গুনাহ্ বর্তালেও হাযেরীনের গুনাহ্ বিন্দুমাত্রও হ্রাস পাবে না; বরং হাযেরীনের মধ্যে প্রত্যেকের উপর তার পূর্ণ গুনাহ্ ও ক্বাওয়ালদের উপর তাদের নিজেদের গুনাহ্ পৃথকভাবে এবং উপস্থিত সবার সমান গুনাহ্ পৃথকভাবে বর্তাবে।এমন ওরস আয়োজনকারীদের নিজ নিজ গুনাহ্ আলাদাভোবে, আর ক্বাওয়ালদের সমান গুনাহ্ আলাদাভাবে আবার সব অংশগ্রহণকারীর সমান গুনাহ্ আলাদাভাবে। এর কারণ হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদেরকে ওরসের আয়োজকই ডেকে এনেছে। অথবা তারই কারণে গুনাহর এসব সামগ্রীর বিস্তার ঘটেছে আর ক্বাওয়ালগণও তাদেরকে ক্বাওয়ালী শুনিয়েছে। যদি সে এর আয়োজন না করতো আর ক্বাওয়ালরাও এ ঢোল ও সারঙ্গী ইত্যাদি না শোনাতো, তবে শ্রোতারা এ গুনাহয় কিভাবে লিপ্ত হতো? সুতরাং এ সবের গুনাহ্ ওই দু’জনের উপর বর্তালো। তারপর ক্বাওয়ালদের এ গুনাহর মাধ্যম হলো ওই ওরসের আয়োজনকারী। সে যদি আয়োজন না করতো, না ডাকতো, তবে এরা কিভাবে আসত পারতো ও বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতো? সুতরাং ক্বাওয়ালদের গুনাহ্ও ওই আহ্বানকারীর উপর বর্তালো।

যেমনটি ফক্বীহগণ বলেছেন এক মজবুত প্রশ্নের জবাবে। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন-

من دعاالى هدى كان له من الاجر مثل اجور من تبعه لا ينقص ذلك من اجور هم شيئا ومن دعا الى ضلالة كان عليه من الاثم اثام من تبعه لا ينقص من ذلك من اثامهم شيئا

অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন হিদায়তের কাজের দিকে আহ্বান করে, যতলোক তার অনুসরণ করবে, সে তাদের সমান সাওয়াব পাবে। আর এর কারণে তাদের সাওয়াবগুলো কোনরূপ হ্রাস পাবে না। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কোন গোমরাহীর কাজের দিকে আহ্বান করে, যতলোক তার আহ্বানে সাড়া দেয়, তাদের সমপরিমাণ গুনাহ্ তার উপর বর্তায়। আর এ কারণে গুনাহ্ কোনরূপ হ্রাস পাবে না। [এটা বর্ণনা করেছেন হাদীসের ইমামগণ, যেমন- আহমদ ও মুসলিম, আরো চারজন হযরত আবূ হোরায়রাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে]

ইরশাদাত-ই আ’লা হযরত, পৃ. ৪৭]