আল্লাহর আনুগত্য

0

= আল্লাহর আনুগত্যের বিবরণ (اطاعت الهى) –

মাহবূবের আনুগত্যের মধ্যেই পরিপূর্ণ মুহাব্বতের পরিচয় পাওয়া যায়। আল্লাহ তা’আলাকে ভালবাসার দাবী করে তাঁর আনুগত্য না করলে ওই দাবীর সত্যতা প্রমাণিত হয় না। আর এ জন্য ইসলাম ভালবাসার সাথে আনুগত্য প্রকাশের শিক্ষা দেয়। যেমন এরশাদ হয়েছে-قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِىْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ

তরজমাঃ হে মাহবূব!আপনি বলে দিন, হে মানবকুল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাকো, তবে আমার অনুসারী হয়ে যাও, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন।  [সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৩১, তরজমা- কান্‌যুল ঈমান।]

কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অনুযায়ী জীবন যাপন করে এবং আল্লাহ তা’আলার হুকুম-আহকাম মেনে চলে, তবে আল্লাহ তাকে এমন নি’মাত দেন যে, সৃষ্টিকুলের সব কিছুই  তার অনুগত হয়ে যায়। এরশাদ হয়েছে-وَسَخَّرَلَكُمْ مَافِى السَّموَاتِ وَمَافِى الْاَرْضِ جَمِيْعًا مِّنْهُ

তরজমাঃ এবং তিনি তোমাদের জন্য কাজে লাগিয়েছেন যা কিছু আসমানসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে, স্বীয় নির্দেশে। [সূরা জা-সিয়াহ, আয়াত-১৩, তরজমা-কান্‌যুল ঈমান।

এ বিষয়ে সায়্যেদুনা শেখ আব্দুল ক্বাদের জীলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁর ‘ফুতূহুল গায়ব’ গ্রন্থে হাদীসে ক্বুদ্‌সী উদ্ধৃত করেছেন- يَآ اِبْنَ ادَمَ اَنَا اللهُ الَّذِىْ لآ اِلَهَ اِلاَّ انَا اَقُوْلُ لِشَئٍ كُنْ فَيَكُوْنُ اَطِعْنِىْ اَجْعَلْكَ تَقُوْلُ لِشَئٍ كُنْ فَيَكُوْنُ وَقَدْ فَعَلَ بِكَثِيْرٍ مِّنْ اَنْبِيَآئِه وَاَوْلِيَائِه وَخَوَاصِّه مِنْ بَنِىْ ادَمُ অর্থাৎ ‘আল্লাহ্‌ তা’আলা এরশাদ করেন-হে আদম সন্তান! আমি হলাম আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আমি কোন বস্তুর উদ্দেশে যখন ‘কুন’ (হয়ে যা) বলি, তখন তা (সাথে সাথে) হয়ে যায়। তুমি আমার আনুগত্য করো।

আমি তোমাকে এমনি শক্তিমান করবো যে, যদি তুমি কোন বস্তুর উদ্দেশে বলো-‘কুন’ (হয়ে যা), তবে তাও (সাথে সাথে) হয়ে যাবে। বস্তুত তিনি আদম-সন্তানদের মধ্যে অনেক নবী, অনেক ওলী ও অনেক খাস বান্দাকে এমনই ক্ষমতা সম্পন্ন করেছেন।’’

যেমন- হুযূর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হিজরতকালে সুরাক্বাহ্‌ ইবনে মালিককে পাকড়াও করার জন্য যমীনকে নির্দেশ দেওয়া মাত্রই যমীন সাথে সাথে হুযূরের আনুগত্য করে তাকে গ্রাস করতে থাকে। অতঃপর সুরাক্বাহ্‌ ক্ষমা প্রার্থনা করলে হুযূরের নির্দেশে যমীন তাকে ছেড়ে দেয় এবং সুরাক্বাহ ঈমান এনে সাহাবী হবার সৌভাগ্য লাভ করেন।

হযরত মূসা আলায়হিস্‌ সালাম ক্বারূন ও তার সম্পদকে গ্রাস করার জন্য যমীনকে নির্দেশ দিলে যমীন তাঁর আনুগত্য করেছিলো। হযরত ঈসা আলায়হিস্‌ সালাম মৃতকে জীবিত হতে বললে মৃত জীবিত হয়ে যেতো। তাঁর অন্যান্য ক্ষমতার বিবরণ তো পবিত্র ক্বোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হযরত ফারূক্বে আ’যম নীল নদকে নির্দেশ দিলে নীল নদ তা পালন করেছে এবং তার ফলশ্রুতিতে এযাবৎ পরিপূর্ণভাবে প্রবাহিত হয়ে আসছে। হুযূর গাউসে পাকের নির্দেশেও মৃত জীবিত হয়েছে। এ ঘটনা বহু কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।

হুযূর গরীব নাওয়ায এক বুড়ির নিহত সন্তানকে জীবিত করেছিলেন। ওই সন্তান এরপর দীর্ঘদিন যাবৎ জীবিত ছিলো। এ ঘটনা ‘মু’ঈনুল আরওয়াহ’ সহ একাধিক জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

[ফুতূহুল গায়ব, মাক্বালাহঃ পৃষ্ঠা-১৯]

[গাউসিয়া তরবিয়াতী নেসাব, পৃ. ১১-১৩]