কদমবুচি বা মুরব্বিদের পায়ে চুম্বন বিষয়ে শরয়ী ফয়সালা

0

 =কদমবুচি বা মুরব্বিদের পায়ে চুম্বন বিষয়ে শরয়ী ফয়সালা =

বর্তমানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি অনেক মাদ্রাসায় শিক্ষকগণ এবং শিক্ষিত সমাজ সালাম প্রদানের পর মাতা-পিতা, উস্তাদ, হাক্কানী পীর-মুর্শিদ, চাচা-চাচী, ফুফাসহ নেহায়ত সম্মানিত ব্যক্তিগণের হাতে পায়ে বিশেষত পায়ে ভক্তি ও আদবের সাথে সম্মান প্রদর্শনের জন্য চুম্বন করে থাকেন। এটাকে অনেকেই শিরিক, হারাম, বিদআত না জায়েয এবং মারাত্মক গুনাহের কাজ বলে ফতোয়াবাজী করেন। কদমবুচি করাকে নেহায়ত ঘৃণার চোখে দেখে- আরো বলে এটা সম্পূর্ণ ভণ্ডদের কাজ। এ বিষয়ে বর্তমানে ওহাবী-খারেজী, কওমী ও আহলে হাদীস নামধারী মওলভীরা বেশী বাড়াবাড়ি ও ফিতনা-ফ্যাসাদ শুরু করে দিয়েছে- এমনকি বিভিন্ন চ্যানেলে কঠাক্ষ করে বিষয়টির প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও ঘৃণা প্রকাশ করছে অহরহ। তাই কদমবুচি বৈধ হওয়ার পক্ষে হাদিস শরীফ ও ফিকহ্ ফাতোয়ার নির্ভরযোগ্য দলিল সহকারে আলোচনা করা হলো। প্রথমে কয়েকটি হাদীসের উদ্ধৃতি পেশ করছি-

হাদীস নম্বর ১
সাহাবীয়ে রাসূল হযরত জারে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আবদে কায়েস গোত্রের দলপতিদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি বলেন, যখন আমরা মদিনা শরীফে আগমন করলাম অতঃপর আমরা দ্রুততার সাথে আমাদের বাহন থেকে অবতরণ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ও পা মোবারক চুমু খেলাম। [আবু দাউদ শরীফ: ২য় খণ্ড, ১০৯ পৃষ্ঠা]

হাদীস নম্বর- ২
হযরত রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে চুমু খেতেন আর বলতেন, আমি ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর মাথা মোবারক চুমু খেয়েছেন। রাসূলে পারীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি তার মায়ের পা চুম্বন করবে সে যেনো জান্নাতের চৌকাঠ চুমু খেলো। [মাবসুত লিস সারাখছি: ১০খণ্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা]

হাদীস নম্বর-৩
হযরত ছাফওয়ান বিন আস্সাল বর্ণনা করেছেন, জনৈক ইয়াহুদী তার সঙ্গীকে বলল, আমাকে এ নবীর নিকট নিয়ে চল। তদুত্তরে সাথী তাকে বলল, তুমি তাঁকে নবী বলবে না কারণ, সে যদি শুনে তুমি তাঁকে নবী বলছ তাহলে তাঁর চার চোখ হয়ে যাবে অর্থাৎ তিনি খুশী হয়ে যাবেন। অতঃপর তারা হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসল্লাম-এর নিকট আসল ও ৯টি নিদর্শন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তদুত্তরে হযরত রাসূলে মকবূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসল্লাম বললেন, ১. মহান আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার/শরীক করো না, ২. চুরি করো না, ৩. যেনা করো না, ৪. যাকে মহান আল্লাহ্ পাক হত্যা করা হারাম করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করো না, নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য শাসকের কাছে নিওনা, ৫. যাদু করো না, ৬. সুদ খেয়ো না, ৭. সৎ নর-নারীকে যেনার অপবাদ দিওনা, ৮. যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করো না, ৯. বিশেষ করে তোমরা ইহুদিরা শনিবার দিন সীমাতিক্রম করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসল্লাম-এর উত্তর শুনামাত্র তারা দু’পায়ে চুম্বন করল এবং বলল নিশ্চয়ই আপনি নবী। তখন রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসল্লাম তাদেরকে বললেন, তবে কি কারণে তোমরা ইহুদীরা আমার অনুসরণ করো না। তদুত্তরে তারা বলল, দাউদ নবী দু’আ করেছেন, হে প্রতিপালক, সবসময় যেনো আমার আওলাদে নবী থাকেন। আমরা আপনাকে যদি মান্য করি এ কথা তাদের কানে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ইহুদীগণ আমাদেরকে হত্যা করবে।

[তিরমিযী শরীফ: ২য় খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা, বাবু মা জায়া ফি কুবলাতিল ইয়াদে ওয়ার রিজলে, মেশকাত শরীফ: কিতাবুল ইমান, পৃষ্ঠা ১৭, নাসাঈ শরীফ: ২য় খণ্ড, ইবনে মাজাহ ২৭০ পৃষ্ঠা. ফাতহুল বারী ৫৭ পৃষ্ঠা, তুফহাতুল আহওয়াজী : ৭ম খণ্ড, ৫২৫ পৃষ্ঠা, মুসান্নেফে ইবনে আবি সাইবাহ্: ৮ম খন্ড, ৫৬২ পৃষ্ঠা, এলায়ে ছুনান]

হযরত তিরমিযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন, উক্ত সাহাবীর মত ইয়াযীদ নিব আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও কা’ব বিন মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কদমবুচি ও হাতবুচির হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বরেছেন যে, বর্ণিত, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।

হাদীস নম্বর-৪
হযরত ছাফওয়ান বিন আস্সাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই ইয়াহুদের একটি গোত্র হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসল্লাম-এর হাত ও পা মোবারক চুম্বন করেছন। [ইবনে মাজাহ: পৃষ্ঠা ২৯২]

হাদীস নম্বর-৫
‘‘ফিকহুস্সুনান ওয়াল আছার’’ কিতাবে প্রখ্যাত মুফতি আল্লামা সৈয়্যদ আমীমুল ইহসান রাহমাতুল্লাহি আলায়হি উল্লেক করেন- হযরত জারে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আবদে কায়েস গোত্রের দলপতিদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি বলেন, যখন আমরা মদিনা শরীফে আগমন করলাম আমরা তাড়াতাড়ি বাহন থেকে অবতরণ করলাম এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ও পা মোবারক চুমু খেলাম। এ হাদীসটিকে ইমাম আবু দাউদ রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি উক্ত হাদীস আদাবুল মুফরাদের মধ্যে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমীযি রাহমাতুল্লাহি আলায়হি সাফওয়ান ইবনে আস্সাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন- ইহুদীদের একদল রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে হস্ত ও পা মোবারকে চুমু দেন।

ঢাকা সরকারী আলীয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস ও প্রধান মুফতি আল্লামা আমিমুল ইহসান রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, আমি বলব এ রকম কদম চুম্বন বা হস্ত চুম্বন দেয়া অনেক সাহাবীদের থেকে বর্ণিত আছে। তার মধ্য থেকে হযরত ওমর রাাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবু লুবাবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর দুই সঙ্গী হযরত মাযীদাতুল আসরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত উসামা ইবনে শরীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও একজন গ্রাম্য সাহাবীকে তারা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মোবারক চুম্বন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কদম শরীফেও চুম্বন করেছেন। হযরত আবদুর রহমান ইবনে রাযীন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছি এবং তাঁর হাত মোবারকে চুমু খেয়েছি। (কিন্তু রাসূলে পাক তা অপছন্দ করেন নি।)

ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এ হাদীসকে তাঁর রচিত কিতাবুল আদবের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। ইমাম তিবরানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হিও এ হাদীসটিকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেন। আবু বকর ইবনুল মুকরী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি হযরত আবী মালেক আল্ আশয়ারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি ইবনে আবী আওফাকে বললাম- আমাকে আপনার হাতে চুমু খাবার জন্য আপনার হাতটি প্রদান করুন। যেই হাতে আপনি রাসূলে পাকের নিকট বায়আত গ্রহণ করেছেন। ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘আদাবুল মুফরাদ’ এর মধ্যে উল্লেখ করেন- হযরত সুহাইব রাদ্বিয়াাল্লাহু আনহু বলেন, আমি হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে দেখেছি প্রিয়নবীর চাচা হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু-এর হাতে ও পা চুমু খেতে। ইমাম তাবারী ও ইবনুল মুর্ফিরী রেওয়ায়েত করেন- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা যখন হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর বাহনের লাগাম ধরলেন, তখন হযরত যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাতে চুমু খেলেন। হযরত সুফিয়ান সাওরী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, হযরত আবু ওবায়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত ওমর ফারুকে আযম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর হাত চুমু খেয়েছেন।
[ফিকহুস্ সুনান ওয়াল আসরার- কিতাবুল হাজর ওয়াল ইবাদত: ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭০৭-৭০৮]

হাদীস নম্বর-৬
হযরত বোরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক আরবী তথা বেদুঈন হুযূরে আকরাম রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মোজেযা চাইল। হুযূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বেদুঈনকে বললেন, ঐ বৃক্ষটাকে বল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তোমাকে ডাকছেন। সে যখন বলল, বৃক্ষটা তার ডান, বাম সম্মুখ ও পেছনে ঝুঁকল, তখন ওটার শিকড়গুলো ভেঙ্গে যায়। অতঃপর তা মাটি খোদাই করে শিকড়গুলো টেনে ও বালি উড়িয়ে হুযূরে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে দাঁড়ালো এবং বলল- আস্সালামু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বেদুঈন বলল, আপনি তাকে আদেশ করুন- যেন এটা ওখানে ফিরে যায়। তাঁর নির্দেশে ওটা ফিরে গেল এবং তাঁর শিকড়গুলো উপর গিয়ে সোজা দাঁিড়য়ে গেল। গ্রাম্য ব্যক্তি বললো, আমাকে অনুমতি দিন আমি আপনাকে সাজদা করব। তখন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি কাউকে সাজদা করার হুকুম আমি দিতাম তাহলে নারীকে হুকুম দিতাম সে যেন তাঁর স্বামীকে সাজদা করে। বেদুঈন আরয করল, হুযূর! তাহলে আমাকে আপনার হস্ত ও পদদ্বয় চুম্বন করার অনুমতি দিন। তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করলেন।
[শিফা শরীফ: কৃত কাজী আয়াজ (রাহ.) ও দালাইলুন্নবুয়াত কৃত ইমাম আবু নাঈম, পৃষ্ঠা ৩৩২]

হাদীস নম্বর- ৭
আমিরুল মু’মিনীন ফিল হাদীস হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন মোবারক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন হাবীব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত জাকওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি হযরত ছুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি বলেছেন, আমি হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছি হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র হাত-পা যুগল চুম্বন করতে। [ইমাম বুখারী ‘আদাবুল মুফরীত’ পৃষ্ঠা- ২৩৮]

হাদীস নম্বর-৮
শাফেঈ মাজহাবের অন্যতম ইমাম শায়খুল ইসলাম সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারী ইবনে হাজর আসকালানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘ফতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী’তে বর্ণনা করেছেন- হাদীস শরীফ প্রমাণ করে কদমবুচি ও হাতবুচির বৈধ হাওয়াকে। তবে হযরত আবহারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, মাজহাবের অন্যতম কাণ্ডারী হযরত ইমাম মালেক রাহমাতুল্লাহি আলায়হি মাকরূহ বলেছেন, যদি তা বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর জন্য হয়। কিন্তু যখন কোন দ্বীনি বা ধর্মীয় চেতনার উদ্দেশ্যে এবং ইলমে দ্বীন ও বুজর্গীর কারণে হয় তাহলে তাহা জায়েয। [ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী: ১১তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৭]

হাদীস নম্বর- ৯
হানাফী মাজহাবের অন্যতম ফকিহ ইমাম ইবনে আবেদীন শামী হানাফী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি আল্লামা আইনী রাহিমাতুল্লাহি আলায়হির বরাতে বর্ণনা করেন- ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি দীর্ঘ আলোচনার পরে বলেন, উপরোক্ত হাদীসের আলোকে দস্তবুচি, কদমবুচি, মাথাবুচি ইত্যাদি বৈধতা প্রমাণিত হলো। যেভাবে বর্ণিত হাদীস থেকে কপালে দুই চোখের মাঝে, দুই ঠোটের উপরে চুমু দেয়া বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে। তবে যখন সম্মান এবং বরকতের জন্য করা হয়। [রদ্দুল মোহতার: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮০]

তবে ফাসেক-ফাজের, জালেম শাসক এবং জাহেল মুর্খকে কদম বুচি ও হাতবুচি করা মাকরূহ ও গুনাহ। কোন কোন ফকিহ এভাবে বলেছেন।

হাদীস নম্বর-১০
পাক-ভারতের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, ‘আশিয়াতুল লুমআত’ কিতাবে শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, পরহেজগার আলেম-এর দস্তবুচি জায়েয এবং কেউ কেউ বলেন- মুস্তাহাব। যদি আলেম ও ন্যায়-পরায়ন বাদশাহর হাত ইলম, ইনসাফ ও দ্বীনের সম্মানার্থে বুচা বা চুমু দেয়, তাতে কোন দোষ নেই। তবে দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধীর উদ্দেশ্যে চুম্বন করা মাকরূহ। হাদীস শরীফে সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামার কদমবুচি করার বর্ণনা এসেছে। [আশিয়াতুল লোমআত শরহে মেশকাত]

আরো অনেক নির্ভরযোগ্য দলিল রয়েছে- উপরোক্ত দশটি দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, হক্কানী পীর-মুর্শিদ উস্তাদ বুজর্গ ও পরহেজগার, নায়েবে রাসূলগণ, মাতা-পিতা, চাচা-চাচী সহ সম্মানিত ব্যক্তি বর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে এবং তাঁদের ইলমেদ্বীন ও পারহেজগারীর প্রতি লক্ষ্য রেখে ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে তাদের হাত ও পা চুম্বন করা নিঃসন্দেহে জায়েয ও মুস্তাহাব। এতগুলো হাদীস ও নির্ভরযোগ্য দলিল থাকার পরও যারা নেহায়ত সম্মানিত ব্যক্তি-বর্গের সম্মানার্থে সালাম আরজ করার পর হাত ও পা দ্বয় চুম্বন করাকে শিরিক, বিদআত ও নাজায়েয হারাম বলে সাধারণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করে মূলতঃ তারা ক্বোরআন-হাদীস ও ফিকহ-ফতোয়া সম্পর্কে অজ্ঞ-জাহেল। তারা প্রকৃত আলেম নয় বরং জাহেল। এদের ফতোয়া দেয়া হারাম।