মুসলিম জাতির ক্রান্তিলগ্নে জামেয়ার গোড়াপত্তনে বিশ্বমানবতা শান্তি খুঁজে পেয়েছে- সালানা জলসায় শাহজাদা আল্লামা কাশেম শাহ্

0

আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্’র সদরাতে জামেয়ার সালানা জলসায় শাহজাদা আল্লামা কাশেম শাহ্ 

মুসলিম জাতির ক্রান্তিলগ্নে জামেয়ার গোড়াপত্তনে বিশ্বমানবতা শান্তি খুঁজে পেয়েছে

========

রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত. মুর্শেদে বরহক, আওলাদে রাসুল, গাউসে জমান হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মুদ্দাযিল্লুহুল আলী) এর সভাপতিত্বে গত ২২ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার সালানা জলসায় প্রধান মেহমান আওলাদে রাসুল শাহ্জাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাশেম শাহ্ (মুদ্দাযিল্লুহুল আলী) বলেন- জামেয়া হচ্ছে কিস্তিয়ে নূহ। মুসলিম জাতির ক্রান্তিলগ্নে জামেয়ার গোড়াপত্তনের মাধ্যমে কুতুবুল আউলিয়া হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি রহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি আল্লাহ ও রাসূলর পথে মানুষকে এমনভাবে নিবেদিত করেছেন যাতে বিশ্বমানবতার শান্তি খুঁজে পেয়েছে।

১৯৫৪ সন হতে অদ্যাবধি জামেয়ার ছাত্ররা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন তাতে ইসলামের মূলধারা সুন্নিয়াতের আলোকে বিশ্বব্যাপী মানুষের সৎপথ অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। তদুপরি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদরজাত অলি আল্লামা তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও বর্তমান হুজুর ক্বিবলা জামেয়ার আদলে দ্বীনি শিক্ষার যে ধারা চালু রেখে যাচ্ছেন তা বাংলাদেশের সুন্নিয়ত পন্থি আলীয়া নেসাবকে শুধু সমৃদ্ধই করেননি বরং বিস্তৃত করেছে নি:সন্দেহে।

প্রধান আলোচক আওলাদে রাসুল শাহ্জাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্ (মুদ্দাযিল্লুহুল আলী) বলেন, জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে মানুষ আলোকিত হয়। আউলিয়া কেরামের সাথে রূহানী সম্পর্ক ও দু‘আর বরকতে মানুষের অন্তর আলোকিত হয়। সুতরাং মানুষের ভিতর-বাহির আলোকিত করতে হুযুর ক্বিবলাহ্ আনজুমান ট্রাস্ট’র মাধ্যমে বাংলাদেশে জামেয়াসহ শতাধিক শরীয়ত ভিত্তিক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাই এ প্রতিষ্ঠানে খেদমত করায় আজ পরলোকগত মুরব্বীগণ আলোকিত মানুষ হিসেবে স্মরনীয় ও বরনীয় হয়ে আছেন।

জলসার সভাপতি হুযুর ক্বিবলা তাহের শাহ্ (মুদ্দাযিল্লুহুল আলী) জরুরী নসিহতে অতি অল্প সময়ের জন্যে আমাদের রূহ ও শরীর একত্রিত হয়েছে উল্লেখ করে জামেয়া-আনজুমান ও গাউসিয়া কমিটির খেদমতের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসুল (দ.)’র সস্তুষ্টি অর্জনের আহবান জানান।

সিলসিলায়ে আলীয়া ক্বাদেরীয়া নবাগতদের ইসলামের নামে-বেনামে সকল ভ্রান্ত-বাতিল অপশক্তি থেকে আত্মরক্ষা ও মোকাবেলায় হুযুর ক্বিবলাহ্ জামেয়াসহ সকল দ্বীনি খেদমতকে মৃত্যুর আগে ছদকায়ে জারিয়া (বা অব্যাহত পূণ্যধারা) হাসিলে এ মহা সুযোগকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন।

বক্তারা জামেয়াকে হুজুর সিরিকোটি রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও হুজুর ক্বিবলা তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি’র স্বপ্নের প্রতিফলন উল্লেখ করে পথহারা মানুষকে রাসুল (দ.)’র মাধ্যমে আল্লাহ পর্যন্ত পৌছাতে যে মিশন পরিচালনা করে গেছেন তা বাস্তবায়নে অনন্য সুযোগ বলে বর্ণনা করেন। তিনি মাশায়েখ হযরাতের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা না করে মুহাব্বতের সাথে জামেয়ার খেদমতের মাধ্যমে দুনিয়া আখেরাতের উন্নতি- সমৃদ্ধি অর্জনের আহবান জানান।

নগরীর পশ্চিম ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ময়দানে অনুষ্ঠিত সালানা জলসায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মুহাম্মদ মহসিন, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জামেয়া গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর আলহাজ্ব মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং প্রতিবেদন পেশ করেন জামেয়ার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি সৈয়্যদ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান।

সিলসিলার কার্যক্রম বিষয়ে বক্তব্য পেশ করেন জামেয়ার শায়খুল হাদীস শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী। জামেয়ার মুফাসসির মাওলানা মোহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন ও আরবি প্রভাষক মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান’র সঞ্চালনায় জলসায় বিশেষ অথিতি ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এতে উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্ট’র এডিশনাল সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আলহাজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক, এসিসট্যান্ট সেক্রেটারী আলহাজ এস.এম. গিয়াস উদ্দিন শাকের, ফিন্যান্স সেক্রেটারী আলহাজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক, প্রেস এ- পাবলিকেশন সেক্রেটারী আলহাজ অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ শামসুর রহমান, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, দুবাই গাউসিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ আইয়ুব, জামেয়া গভর্নিং বডির সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

তাকরীর করেন আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা এম এ মান্নান, ঢাকা ক্বাদেরীয়া তৈয়্যবিয়া আলীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেয আবদুল আলীম রিজভী, জামেয়ার প্রধান ফক্হি মাওলানা মুফ্তি কাযী মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, উপাধ্যক্ষ ড.মাওলানা মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, মুহাদ্দিস মাওলানা হাফেয মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আলকাদেরী, মাওলানা আবুল হাশেম শাহ, মাওলানা গোলাম মোস্তফা মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মাওলানা আবদুল গফুর রেজভী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ১১১জন পবিত্র কুরআনে হাফিয ৬৬৩ জন কামিল হাদীস, ফিক্হ, তাফসীর বিভাগে চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ সর্বমোট ৭৭৪ জন শিক্ষার্থীকে দস্তারে ফজিলত ও শিক্ষা সমাপনী সনদ প্রদান করা হয়।

এতে আনজুমান ট্রাস্ট’র সদস্যবর্গ, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় জেলাসহ বিভিন্নস্তরের দায়িত্বশীল, জামেয়ার ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, হুযুর ক্বিবলার অগণিত ভক্ত-মুরীদ ও সর্বস্তরের সুন্নী মুসলমানরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিশেষে হুযুর ক্বিবলার আখেরী মুনাজাত ও তাবাররুক বিতরণের মাধ্যমে জলসার সমাপ্তি ঘটে।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •