চট্টগ্রামের জশনে জুলছকে বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভক্ত করার দাবি বক্তাদের

0

চট্টগ্রামে জশনে জুলছে ঈদে মিলাদুন্নবী ( দ.)-এ লাখো মানুষের ঢল
আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (ম.জি.আ.)’র নেতৃত্বে আন্জুমান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত

====

গত ২ ডিসেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদ্যাপন উপলক্ষে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত হয়। আওলাদে রাসূল, রাহনুমায়ে শরিয়ত ও তরিকত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ মুদ্দা জিল্লুহুল আলি, শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাশেম শাহ, শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামেদ শাহ ছাহেবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ জুলুছটি নগরীর ষোলশহরস্থ আালমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়া হতে সকাল ৮টায় শুরু হয়ে নগরীর বিবিরহাট, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, চন্দনপুরা, দিদার মার্কেট, সিরাজুদৌলাহ রোড, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, জামাল খান, প্রেসক্লাব, গণী বেকারি, চট্টগ্রাম কলেজ, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর হয়ে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে গিয়ে বিশাল মিলাদুন্নবী(দ.)মাহফিলে মিলিত হয়।

চল্লিশ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত জুলুছের পুরোটাই জুড়ে নারায়ে তাকবির, নারায়ে রিসালাতের ধ্বণি, কুরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ই রাসূল (দ.) পরিবেশনে মুখরিত হয়ে উঠে। জুলুছ শেষে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা ময়দানে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (ম.জি.আ.)এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশাল ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, আওলাদে রাসূল শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাশেম শাহ (ম.জি.আ.), প্রধান বক্তা ছিলেন, শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামেদ শাহ (ম.জি.আ.)। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণা ও রহমতের বারতা নিয়ে এ পৃথিবীতে আগমণ করেছেন। তিনি পৃথিবীতে এসে বিভ্রান্ত মানব জাতিকে সত্যের দিশা দিয়েছেন, আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার,সংঘাত, সংঘর্ষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ দূরীভূত করে মানবতাবাদী বিশ্ব গড়ে তুলেছেন। সারা পৃথিবী জুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। মহানবীর আগমন মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অপুরন্ত নেয়ামত। এ নিয়ামতের শোকরিয়া আদায়ার্থে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী মুসলমানদের আজ আনন্দের দিন, খুশির দিন। আজকের দিন মূলত ঈদের দিন। যে ঈদ না পেলে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পেতাম না আমরা। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে হুজুর আল্লামা তৈয়ব শাহ (র.) এ জুলুছের প্রবর্তন করে শুধু আমদেরই ঋণি করেননি বরং বিশ্বাসীকে ঋণি করে গেছেন।

আজ চট্টগ্রামের এ জশনে জুলুছ একদিকে যেমন বিশ্বের সর্ববৃহৎ জুলুছে পরিনত হয়েছে অপরদিকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৪৫টি দেশে এ জুলুছ রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারিভাবে পালিত হচ্ছে। তিনি লাকো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দৃষ্টান্তমূলক এ সুশৃঙ্খল জুলুছের আয়োজনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান বক্তা আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামিদ শাহ (ম.জি.আ.) বলেন, নবী প্রেমে উজ্জীবীত হয়ে চট্টগ্রামবাসীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেভাবে জুলুছকে সফল করেছেন তাতে আমরা অভিভূত। আমার যতটুকু দৃষ্টি পড়েছে মনে হয়েছে এ জুলছ এক মহাসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, মুসলমানদের ঈমানের সবচেয়ে বড় পরিচয় আল্লাহর প্রিয় হাবিব সরওয়ারে কায়েনাত হুজুর করিম (দ.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা। এ জশনে জুলছ তারই বহিপ্রকাশ। তিনি বলেন, মহানবীর অতুলনীয় আদর্শকে ধারণ করে ইসলামি বিধানের আলোকে জীবন গঠনে আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন শাহেনশাহে সিরিকোট আল্লমা সৈয়দ আহমদ শাহ (র.) ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (র.)। বর্তমান হুজুর কেবলা সে ধারাবাহিকতায় সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়ার মাধ্যমে ইসলামের মর্মবাণী মানুষের কাছে পৌছিয়ে দিচ্ছেন।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (ম.জি.আ.), আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামিদ শাহ (ম.জি.আ.)কে মুবারকবাদ জানিয়ে বলেন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে তাদের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে যে স্মরণকালের বৃহত্তর জুলুছ অনুষ্ঠিত হয়েছে তা আমাদের গৌরবান্বিত করেছে। এ জুলুছ আজ চট্টগ্রামের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যে পরিনত হয়েছে।

আগামীতে এ জুলছ যেন আরো সুশৃঙ্খল ও সন্দরভাবে করতে পারি সে জন্য আনজুমান কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান বলেন, বাংলার মানুষ দেশপ্রেম এবং নবীজির মুহাব্বতের সর্বোচ্চ পরাকাষ্ট প্রদর্শণে কোন ভুল করেন না। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ একসাগর রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে। মাত্র নয়মাসের যুদ্ধে বিশ্বের মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকার বিজয় নিশ্চিত করেছে।

এদেশের মানুষ একইভাবে বিশ্ব মানবতার কান্ডারী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.) এর প্রতি যে ভালোবাসা ও প্রেম প্রদর্শন করার লক্ষ্যে আওলাদে রাসূলের নেতৃত্বে আয়োজিত জুলুছে অংশগ্রহণ করেছে তা এককথায় অতুলনীয়। তিনি বলেন, হিজরি সালের গণনায় আজকের এ জুলুছ ৪৪তম বর্ষে পদার্পন করেছে। এটি এখন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যে পরিনত হয়েছে।

বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট ধর্মীয় র‌্যালী হিসাবে এ জুলুছ ‘ওয়ার্লড হ্যারিটেজ’-স্থান পাওয়ার দাবি রাখে। তিনি বলেন, আল্লামা হাফেজ কারী সৈয়দ মুহাম্ম তৈয়ব শাহ(র.) এ জুলুছ প্রবর্তন করে আমাদের সৌভাগ্যবানের কাতারে নিয়ে গেছেন। এ জন্য আমরা এ মহান আওলাদে রাসুলের শোকরিয়া আদায় করছি। মাহফিলে আন্জুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জুলুছের সাদারত ও অতিথি হুজুর কেবলায়ে আলম ও দুই ছহেবজাদার শোকরিয়া আদায়সহ লাখো ধর্মপ্রাণ সুন্নি মুসলমানদের অভিনন্দন জানান।

আন্জুমানের এ দুই কর্মকর্তা জুলুছকে সফল করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক সহযোগিতার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টসহ প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. মাছির উদ্দিন, প্যানেল মেয়র জুবায়রা নার্গিস, সিডিএর চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, সকল গোয়েন্দা সংস্থা, এএসএফ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

গাউসিয়া কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ারুল হক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা বখতেয়ার উদ্দিনের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত বিশাল এ মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী, গাউসিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান আলকাদেরী, আল্লামা মুফতি আবদুল ওয়াজেদ, জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, ঢাকা কাদেরিয়া তৈয়বিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা কাজি আবদুল আলিম রিজভী, উপাধ্যক্ষ আল্লামা আবুল কাশেম ফজলুল হক, মুহাদ্দিস আল্লামা আশরাফুজ্জামান আরকদেরী, হালিশহর তৈয়বিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়ার অধ্যক্ষ বদিউল আলম রিজভী, দাওয়াতে খায়ের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মাওলানা মোজাম্মেল হক, আল্লামা আবুল হাশেম মাহ, আল্লামা আবুল আসাদ জুবায়ের রিজভী, অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ জালাল আল আজহারি, অধ্যক্ষ মাওলানা তৈয়ব খান, গাউসিয়া কমিটি ইউএই শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জানে আলম প্রমূখ।

মাহফিলের মঞ্চে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও জুলুছ প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সিরাজুল হক, অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন সাকের, ফিন্যান্স সেক্রেটারি আলহাজ্ব সিরাজুল হক, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি প্রফেসর কাজি সামশুর রহমান, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোবারক আলী, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোরশেদুল আলম, ঢাকা আনজুমান সদস্য আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় আনজুমান সদস্য আলহাজ্ব আবদুস সাত্তার, আলহাজ্ব নুরুল আমিন, আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, আলহাজ্ব আদুল মোনাফ সিকদার, আলহাজ্ব শেখ নাছির উদ্দিন, আলহাজ্ব কমরুদ্দিন সবুর, আলহাজ্ব আবুল কাসেম টিম্বার, আলহাজ্ব আবদুল হাই মাসুম, জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল আল্লামা লেয়াকত আলী, গাউসিয়া কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও আনজুমান সদস্য আলহাজ্ব আবদুল হামিদ, মহাসচিব শাহজাদা ইবনে দিদার, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব ইলাহি শিকদার, মহানগর গাউসিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল মনসুর, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব সাদেক হোসেন পাপ্পু, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হাবিবুল্লাহ, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এড. জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী।

মাহফিল শেষে আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (ম.জি.আ.) দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ হায়াত, প্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মাগফেরাত, অসুস্থ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রোগমুক্তিসহ দেশ, জাতি ও মুসলিম মিল্লাতের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধ কামনা করে মোনাজাত করেন।

শেয়ার
  • 68
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    68
    Shares