রাষ্ট্রিয় ভাবে জশ্নে জুলুছ ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন করার দাবি

0

ঢাকা আনজুমান শাখার উদ্যোগে জশনে জুলুছে বক্তারা-

রাষ্ট্রিয় ভাবে জশ্নে জুলুছ ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করার দাবি

=======
আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাষ্ট ঢাকার উদ্যোগে ২৯ নভেম্বর, ৯ রবিউল আউয়াল যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র জশ্নে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদ্ন্নুবী (দ.) উৎযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজার হাজার মুসল্লি, রাসুল (দ.) প্রেমিক আশেকানগণের অংশ গ্রহণে ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুরস্থ কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া (কামিল) মাদ্রাসা প্রাঙ্গন হতে এক আজিমুশ্বান জুলুছ (ধর্মীয় র‌্যালী) বের হয়ে শাহজাহান রোড, ইকবাল রোড, আসাদ এভিনিউ, আসাদ গেইট, মিরপুর রোড, সোবহান বাগ, কলাবাগান, সাইন্সল্যাবটরী, ঝিগাতলা, সাত মসজিদ রোড, মোহাম্মদপুর, শিয়া মসজিদ, রিং রোড, সড়ক সমুহ প্রদক্ষিণ করে মাদ্রাসা’র সম্মুখে আসিয়া শেষ হয়।

জুলুছ (ধর্মীয় র‌্যালী) শেষে মোহাম্মদপুরস্থ কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া (কামিল) মাদ্রাসা ময়দানে এক নুরাণী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জুলুছ (র‌্যালী) ও মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন রহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিক্বত হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)। প্রধান মেহমান ছিলেন সাহেবজাদা হুজুর কেবলা হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাশেম শাহ্, (মাঃজিঃআঃ) ও আলহাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্ (মাঃজিঃআঃ)। আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আনজুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মুহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আলহাজ্ব মুহাম্মদ সিরাজুল হক, ঢাকা আনজুমানের চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, ভাইস- চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া (কামিল) মাদরাসার সভাপতি ও ঢাকা আনজুমানের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম রতন, সেক্রেটারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সিরাজুল হক, ট্রেজারার আলহাজ্ব শোয়েবুজ্জামান চৌধুরী তুহিন, সদস্য শাহ্ হোসেন ইকবাল, হাজী নুরুল আমিন, ঢাকা মহানগর গাউসিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুল মালেক বুলবুল সহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা আঞ্জুমানের নেতৃবৃন্দ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আনজুমানের সেক্রেটারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সিরাজুল হক এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আনজুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মুহাম্মদ মহসিন ও সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। মাহফিলে জশ্নে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ.)’র তাৎপর্য্ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া (কামিল) মাদরাসার অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল আলিম রিজভী, মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আজহারী, মুফতী মাহমুদুল হাসান সহ দেশ বরেণ্য ওলামায়েকেরামগণ। মাহফিল পরিচালনা করেন উপাধ্যক্ষ মুফতী আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক ও হাফেজ মুনিরুজ্জামান।

মাহফিলে ওলামায়ে কেরামগণ বলেন- শুকরিয়া মহিমাময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের দরবারে। যিনি আমাদেরকে দান করেছেন অসংখ্য নেয়ামত। বিশেষত প্রধান নেয়ামত হিসেবে আল্লাহ্’তায়ালা প্রিয় হাবীব হুজুর করিম (দ.) কে সৃজন করে ধন্য করেছেন সমগ্র সৃষ্টি জগৎ কে। অসংখ্য দুরূদ-সালাম প্রিয় নবীজির শানে। যাঁর সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ বলেন- আপনাকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি করতাম না (আল হাদিস)। আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি। হে মাহবুব আপনি বলুন, আল্লার রহমত ও করুনা প্রাপ্তির কারণে বান্দারা যেন খুশি উৎযাপন করে। এটা তাদের সকল সঞ্চিত এবাদত হতেও উত্তম। নবীজির শুভ জন্ম সংবাদে আনন্দ প্রকাশ স্বরূপ- আবু লাহাবের মত অভিশপ্ত কাফেরও শোয়াইবা নামে স্বীয় দাসীকে আজাদ করার কারণে নবীর (দ.) জন্মদিন হিসেবে প্রতি সোমবার ভয়াবহ শাস্তি হতে কিছুটা পরিত্রাণ পায়। একজন কাফের হয়েও মিলাদুন্নবী অর্থাৎ নবীর (দ.) জন্ম উপলক্ষে খুশী প্রকাশের কারণে আবু লাহাব যদি আল্লাহর এমন করুণা লাভ করে, তবে আমরা কেন এ মহান নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হব। নবী করিম (দ.) এ ধরায় আবির্ভাব মুহূর্তে জিব্রাইল (আ.) এর নেতৃত্বে অসংখ্য ফেরেশতা ‘জুলুস’সহ মারহাবা ধ্বনিতে ধরায় অবতরণ এবং নবীকরিম (দ.) হিজরত করে মদীনা উপকন্ঠে পৌছালে সানিয়াতিলবেদা নামক স্থানে মদীনাবাসীগণ জুলুছ সহকারে সালাত সালাম ও সম্বর্ধনা জ্ঞাপনের অনুকরণে আমরা যদি রবিউল আউয়াল মাসে নবীজির সম্মানে জশ্নে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) পালন করি তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামত প্রাপ্ত হব।

আমরা বিশ্বাস করি রাসুলপাক (দ.) আমাদের জন্য আল¬াহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সুতরাং ১২ই রবিউল আউয়াল হুজুর করিম (দ.) এর শুভাগমনের দিন হিসেবে সারা জাহানের জন্য ঈদ অর্থাৎ খুশির দিন। এদিনে শরীয়ত সম্মতভাবে খুশি উৎযাপনে যে কোন জাকজমক কর্মসূচি পালন করাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক উত্তম উছিলা। যে কোনো এবাদত যদি একাকি না হয়ে সম্মিলিত ভাবে জামাত সহকারে হয় তাহলে ছওয়াব বেশি হয়। তাই আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য রাসুলে করিম (দ.) এর উনচল্লিশতম বংশধর কাদেরিয়া ত্বরিকতের উজ্জল নক্ষত্র যুগ শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যাক্তিত্ব পাকিস্থান ছিরিকোট দরবার শরীফ এর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.)’র নির্দেশে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাষ্টের উদ্যোগে ১৯৭৪ইং সালে এদেশে সর্ব প্রথম জশ্নে জুলুছের সূচনা করা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে হুজুরে করিম (দ.) এর এ ধরায় শুভাগমনকে স্বরণ করে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাষ্টের উদ্যোগে প্রতি বছর ৯ রবিউল আউয়াল ঢাকা মহানগরীতে এবং ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রাম বন্দর নগরীতে জাক-জমক ও যথাযোগ্য মর্যাদার এর সহিত জশ্নে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করা হয়।

পরবর্তীতে অনুপ্রাণীত হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা ও সিলসিলার পীর মাশায়েখদের উদ্যোগে সমগ্র বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জশ্নে জুলুছ ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন শুরু হয়। আমরা বাংলাদেশে রাষ্ট্রিয় ভাবে জশ্নে জুলুছ ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করার দাবী জানাচ্ছি।

মাহফিলে বক্তব্যের পর খতমে গাউসিয়া শরীফ ও মিলাদ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সব শেষে বাংলাদেশসহ সমস্ত মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় দোয়া করেন হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)। উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর হুজুর কেবলায়ে আলম ও সাহেবজাদাদ্বয় ঢাকা থেকে দুপুরে ফ্লাইটযোগে চট্টগ্রাম প্রত্যাবর্তন করবেন।

শেয়ার
  • 371
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    371
    Shares