কল্যাণের পথে আহ্বান- মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম

0

কল্যাণের পথে আহ্বান-

মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম

===
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ একটি আধ্যাত্মিক সংগঠন। এক ঈমানী কাফেলার নাম। এ সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হতে পারা সৌভাগ্যের প্রতিটা মুসলমানের জন্য। আওলাদে রসূল মহান মোর্শেদ আল্লামা তৈয়ব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি প্রবর্তিত এ সংগঠনে যুক্ত হয়ে একজন মানুষ সত্যিকার বিশুদ্ধ ঈমান লাভের পাশাপাশি অন্য মানুষকেও সৎ পথ প্রদর্শনে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ কাফেলার একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যসূচি রয়েছে, জন মানুষকে সৎপথে আহ্বানের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি। গাউসিয়া কমিটির ভাইদের জন্য প্রণীত পাঠ্যসূচির প্রাথমিক গ্রন্থের নাম ‘গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব’ কিতাবের মুল উদ্দেশ্য হলো দা’ওয়াতে খায়র। দা’ওয়াতে খায়ের বলতে যা বুঝায়। দা’ওয়াত মানে আহবান করা, দা’ওয়াত দেওয়া, বা আমন্ত্রণ জানানো। আর খায়র অর্থ-হলো উত্তম, ভাল, কল্যাণ ইত্যাদি। সুতরাং দা’ওয়াতে খায়র বলতে বুঝায় কল্যাণের পথে আহবান করা বা উত্তম পথে আমন্ত্রন জানানো।

দা’ওয়াতে খায়র নামটি যেমন সুন্দর তেমনি মধুর। আর এর চেয়েও বেশী সুন্দর ও কল্যাণকৃত কাজ হচ্ছে সাধারন মুসলমান ভাইদেরকে উওম পথে বা কল্যাণের পথে আহবান করা। আল্লাহ্ তাআলা পবিত্র ক্বোরআন ই করীমের সূরা আল ইমরান আয়াত ১০৪-এ এরশাদ করেন – ওয়ালতাকুম্ মিন্কুম উম্মাতুই ইয়াদ্’উ্-না ইলাল খায়রি ওয়া ইয়া’মুরূ-না বিল্ মা’রূ-ফি ওয়া ইয়ান্হাউনা ‘আনিল মুন্কার। ওয়া উলা– ইকা হুমুল মুফলিহুন”। অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা চাই, যারা কল্যানের প্রতি আহবান জানাবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ থেকে নিষেধ করবে, আর এসব লোকই লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে।

সুখের বিষয় হচ্ছে আজ তা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। প্রতিটি এলাকায় গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর কর্মী ও পীরভাইরা একত্রিত হয়ে সাধারন মুসলমান ভাইদেরকে কল্যানের পথে আহবান জানাচ্ছেন এবং সাথে সাথে মুসলমান ভাইরাও এগিয়ে আসছেন। সারাদেশের সচেতন মানুষ সাদরে গ্রহণ করছে এ কর্মসূচি। তাই আজ প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, গ্রামগঞ্জে, মসজিদে সপ্তাহিক ও মাসিক দা’ওয়াতে খায়র মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর সুন্দর দৃশ্য সত্যি দেখার মত। যদি আপনি এ দা’ওয়াতে খায়র মাহফিলে না বসেন তা বুঝতে পারবেন কি করে? এই ভাবে কিছুদিন নিয়মিত ভাবে এ মাহফিলে বসলে একদিন বলবেন আমরা এতদিন কি শিখিছি। এ দা’ওয়াতে খায়র মাহফিলে বসলে আপনার দৈনন্দিন জীবনে যা প্রয়োজন যেমন- কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, ওজু সহ ইত্যাদি বিষয়ের উপর জরুরী জ্ঞান, শরীয়তের যাবতীয় মাসআলা-মাসাইল সম্পর্কে অতি অল্প সময়ের মধ্যে শিখতে পারবেন যা অতীতে কেউ আপনাকে শিখায় নি। একজন মুসলমানের জন্য এসব বিষয় জানা ফরয। এ দা’ওয়াতে খায়র মাহফিলে বসলে ইহকাল ও পরকালে কি ভাবে মুক্তি পাবেন তাও বিস্তারিত ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, একেকজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আলেম ও শিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে, বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দা’ওয়াতে খায়র মাহফিলে পবিত্র ক্বোরআন করিমের অনুবাদ থেকে তাফসীর, হাদীস শরীফ ও মিসকাত শরীফ থেকে ব্যাখ্যা উপস্থাপনা করার পর, গাউসিয়া তারবিয়াতে নেসাব থেকে কিছু শরীয়তে মাসআলা-মাসাইল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। সর্বউচ্চ ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যা অতীতে কেউ করেনি। বর্তমানে সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমান ভাইরা অনেকটা দিশাহারা হয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছেন। কোনটা ভালো খারাপ নির্ণয় করতে পারছেন না। তাই বর্তমানে এই দা’ওয়াতে খায়র সকলের জন্য এত বেশী যুগোপযুগি একটি উত্তম বা ভাল পদক্ষেপ যে, তা কল্পনাও করা যায় না। কেননা ওখানে ক্বোরআন, হাদীস, ইজমা, কিয়াস, শরীয়ত ও তরীক্বতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সম্পর্কে এমন ভাবে আলোকপাত করা হয় যে অতি অল্প সময়ে বহু জ্ঞান অর্জন করা যায়। আরো সুখের বিষয় যে, আমাদের প্রাণপ্রিয় মুরশীদে বরহক পীরে বাঙ্গাল আওলাদে রাসুল রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ১৯ ডিসেম্বর ২০১০ ইয়রেজী আলমগীর খানক্বায় শরীফে হাজার পীর ভাইদের উপস্থিতিতে দা’ওয়াতে খায়র সম্পর্কে অতিগুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বলাই বাহুল্য। বর্তমানে অতি অল্প সময়ের মধ্যে দা’ওয়াতে খায়র বিশাল আকারে বিস্তার লাভ করেছে। তাই সকল পীর ভাই ও বোনরা সন্মিলিত ভাবে সমাজের সর্বস্থরে পাড়ায়, মহল্লা, গ্রামগঞ্জে, ঘরে, দপ্তরে, দোকানে, অফিস-আদালতে সর্বত্র এই দা’ওয়াত পৌছিয়ে দিতে হবে। এটা আমাদের উপর একবড় জিম্মাদারী দিয়েছেন আমাদের মাশায়েখ হযরাত, এর শোকরিয়া আদায় কেয়ামত পর্যন্ত করলেও হবে না। তাই আমাদেরকে এই মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় বাতিল মতবাদের খপ্পড়ে পড়ে সাধারণ ও সরলপ্রাণ মানুষগণ ঈমান হারা হয়ে অশুভ পরিনতির সম্মুখীন হয়ে যাবে। বর্তমানে যেভাবে বাতিল পন্থীরা অগ্রসর হচ্ছে যেমন- জামাত, ওহাবী, আহলে হাদীস, কাওমী, শিয়া ইত্যাদি সহ সাধারন মুসলমানদেরকে যে ভাবে ধোঁকা দিচ্ছে, মানুষকে ঈমান হারা করছে তা থেকে বাচাঁনোর জন্য আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাতিলপন্থীদের খপ্পড় থেকে বাচানোর জন্য আমাদের পরিবার পরিজন, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন,বন্দু-বান্ধব,আত্বীয়সজন সকলকে বাঁচাতে দা’ওয়াতে খায়র এর বিকল্প নাই। তাই সকল পীর ভাই ও বোনেরা সন্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দা’ওয়াতে খায়র সর্বত্র চালু করার জন্য উর্দাত্ত আহবান জানাচ্ছি। এটা আল্লাহ তাআলার বরকতময় নির্দেশ। মহান আল্লাহ্ বলেন “কুনতুম খায়রা উম্মাতিন উখরিজাত লিন্না-সি তা’মুরূ-না বিল মা’রূ-ফি ওয়া তান্হাউনা ‘আনিল ম্ন্কুারি ওয়া ত’ুমিনূ-না বিল্লা-হ্”। অথ্যাৎ তোমরা হলে শ্রেষ্ঠতম ওইসব উম্মতের মধ্যে, যাদের আতœ প্রকাশ ঘটেছে মানবজাতির জন্য: (যেহেতু) প্রকৃত সৎ কাজের নির্দেশ তোমরাই দিচ্ছো আর মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখছো এবং আল্লাহর উপর যথার্থ ঈমান রাখছো।’’ আসুন, আমরা ওই একমাত্র দলের অন্তর্ভুক্ত হই,যে দলের মধ্যে আল্লাহ ও তার রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, আহলে বায়াতে রাসুল ,আউলিয়া-ই কামেলীন আছেন। তারাই একমাত্র জান্নাতী দল, যারা কল্যানের পথে আহবান করেন, উত্তম কাজের আদেশ উপদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখেন।

সুতরাং, বুঝা যাচ্ছে যে, আমরা কতই না ভাগ্যবান, যারা এ জিম্মাদারী নিজেদের কাঁধে নিতে পেরেছি। তাই আমাদের মাশায়েখ হযরত আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন:- আল্লাহ পাক এ মহান কাজের জন্য আমাদেরকে বাছাই বা পছন্দ করেছেন। যদি আমরা এ কাজে গাফিলতি করি, অলসতা করি,তবে তা আমাদের জন্য হবে ভয়াবহ পরিণামের কারণ, তিনি পবিত্র ক্বোরআনে করিমের সুরা মুহাম্মদ আয়াত-৩৮, উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- “ওয়া ইন্ তাতাওয়াল্লাউ ইয়াসতাব্দিল ক্বাউমান গায়রাকুম সুম্মা লা-ইয়াকুনু আম্সা লাকুম”। অর্থ্যাৎ:- যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের ব্যতীত অন্য লোকদেরকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন। অতঃপর তারা তোমাদের মত হবে না। অন্যথায় কোন সম্প্রদায়কে দিয়ে দেওয়া হবে এ সৌভাগ্যের মুকুট। তাই গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ আপনাদেরকে দা’ওয়াতে খায়র মাহফিলে আসার আহবান জানাচ্ছে এবং সাঠিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আল্লাহ তাআলা সবাইকে বুঝার তাওফীক দান করুক, আমীন।

লেখক:সহ দপ্তর সম্পাদক, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগর।