সুন্নাত ও বিদআত

0

 = সুন্নাত ও বিদ’আত =

মানুষের জীবনের পরম স্বার্থকতা আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত। আল্লাহ্‌র ইবাদত-বন্দেগী, হুকুম-আহকাম পালন করে তাঁরই অনুমোদিত পথে জীবন যাপনের মাধ্যমেই তাঁর সন্তুষ্টি পাওয়া সম্ভব। আল্লাহ্‌ তা’আলা ইরশাদ করেন-وَمَا خَلْقَتُ الْجِنَّ وَالْاِنْسَ اِلاَّلِیَعْبُدُوْنَ

তরজমাঃ আমি জিন্‌ ও ইনসানকে সৃষ্টিই করেছি আমার ইবাদত করার জন্য। [সূরা যারিয়াত, আয়াত-৫৭]

বান্দা কীভাবে তাঁর ইবাদত বন্দেগী করবে? কোন্‌ জীবনযাত্রা তাকে আল্লাহ্‌র পরিচয় দানে ধন্য করবে? আল্লাহর সঠিক আনুগত্য কীভাবে হবে? এ সব প্রশ্নের সমাধান দিয়েই আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন- مَنْ یُّطِعِ الرَّسُوْلَ فَقَدْ اَطَاعَ اللّٰہُ

তরজমাঃ যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো, সে তো আল্লাহ তা’আলারই আনুগত্য করলো।  [সূরা নিসা, আয়াত-৮০]

আল্লাহ্‌ তা’আলা আরও এরশাদ করেন- قُلْ اِنْ کُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوْنِیْ یُحْبِبْکُمُ اللّٰہُ وَیَغْفِرْلَکُمْ ذُنُوْبَکُمْ وَاللّٰہُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ

তরজমাঃ বলুন (হে হাবীব), যদি তোমরা আল্লাহ্‌র ভালবাসা চাও, তবে আমার অনুসরণ করো। তা হলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ভালবাসবেন আর তোমাদের পাপ মার্জনা করবেন, আল্লাহ্‌ তাজ্ঞআলা ক্ষমাশীল, দয়ালু।    [সূরা আ-লে ইমরানঃ ৩১]

আল্লাহ্‌ তা’আলার পছন্দনীয় মানবজীবন রাসূলের আনুগত্য ও অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। এক কথায় আল্লাহর রাসূলের জীবনাচরঢকে অনুসরণ করলেই আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের উপর খুশী হবেন। প্রিয় নবীর জীবনচলায় উম্মতের অনুসরণ যোগ্য সকল বিষয়কেই সুন্নাত বলা হয়।

‘সুন্নাত’র পরিচিতি

‘সুন্নাত’ (سُنَّةٌ) – এর শাব্দিক অর্থ তরীক্বা, কার্যপ্রণালী, জীবনাচার, প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ইত্যাদি। এর বহুবচন سُنَةٌ (সুনানুন). যেমন ক্বোরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে, قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِکُمْ سُنَنٌ তোমাদের আগে অতীত হয়েছে অনেক ধরনের জীবনাচরণ)[সূরা আলে এমরান, আয়াত-১৩৭]

অপর জায়গায় মহান আল্লাহ এরশাদ করেন-سُنَّۃَ مَنْ قَدْ اَرْسَلْنَا قَبْلَکَ مِنْ رُّسُلِنَا وَلَاتَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِیْلاً

তরজমাঃ আপনার পূর্বে আমি যত রাসুল প্রেরণ করেছি, সবার ক্ষেত্রে এরূপ নিয়ম- প্রক্রিয়া চালু ছিলো। আপনি আমার নিয়মে ব্যতিক্রম পাবেন না।[সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত- ৭৭]

শরীয়তের পরিভাষায় রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র কথা, কাজ, সম্মতি, যা উম্মতের জন্য অনুসরণযোগ্য সেটাই সুন্নাত।

সংক্ষেপে এর শর’ঈ সংজ্ঞা হলো-اَلسُّنَّۃُ تُطْلَقُ عَلٰی قَوْلِہٖ عَلَیْہِ السَّلاَمُ وَفِعْلِہٖ وَسُکُوْتِہٖ وَعَلٰی اَقْوَالِ الصَّحَابَۃِ وَاَفْعَالِہِمْ

অর্থাৎ ‘‘সুন্নাত বলা হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের বাণী, কাজ ও নীরব সম্মতিকে। সাহাবায়ে কেরামের কথা এবং কাজকেও এ অর্থে প্রযোজ্য।’’ [নুরুল আনোয়ার কৃত মোল্লা জীবন রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, ওফাত- ১১৩০ হিজরি, মিরক্বাত, কৃত- মোল্লা আলী ক্বারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি]

হাদীসের সংজ্ঞা এবং পরিভাষাও অনুরূপ। এ জন্য সব সুন্নাতই হাদীস; কিন্তু সব হাদীসকে সুন্নাত বলা হয় না।

এ প্রসঙ্গে মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন-سنت سے مراد حضور صلی اللہ علیہ وسلم کے سارے فرمان اور وہ افعال اور احوال ہیں جو مسلمانوں کے لئے قابل عمل ہیں

অর্থাৎ-সুন্নাত বলতে বুঝায়- হুযূর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসালামঞ্চর সকল বাণী এবং ওই সমস্ত কাজ ও অবস্থাকে, যা মুসলমানদের ক্ষেত্রে আমলের উপযোগী।       [মিরআত শরহে মিশকাত, অধ্যায়- কিতাব ও সুন্নাতকে মজবুত করে ধারণ করা।]

প্রিয় নবীর জীবনের ওই সব বিষয়, যেগুলো একান্তই তাঁর বিশেষত্ব বলে সাব্যস্ত, কিন্তু উম্মতের বেলায় তা প্রযোজ্য নয়, তা হাদীস; সুন্নাত নয়. যেমন ‘সওমে বেসাল’ (ইফতারবিহীন একটানা রোযা রাখা), চারের অধিক স্ত্রী গ্রহণের বিষয় ইত্যাদি। এগুলো নবীর জন্য খাস, তবে উম্মতের আমলের উপযোগী নয়। নবীর জন্য বিশেষিত আমল ছাড়া বাকী সব সুন্নাত; উম্মতের জন্য উভয় জগতের পাথেয় স্বরূপ।