শিয়া ধর্মাবলম্বীদের জঘন্য-গর্হিত কাজ মুত্‘আহ্ (সাময়িক বিবাহ্) সম্পর্কে শরীয়তের বিধান

0

শিয়া ধর্মাবলম্বীদের জঘন্য-গর্হিত কাজ মুত্‘আহ্ (সাময়িক বিবাহ্) সম্পর্কে শরীয়তের বিধান

তরজুমান ডেস্ক

=====

‘সহীহাঈন’ (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)-এ হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রসূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ‘নিকাহে মুত্‘আহ্’ (সাময়িক বিবাহ্)কে ‘খায়বার’-এ নিষিদ্ধ (হারাম) করেছেন। এতদ্সঙ্গে গৃহপালিত গাধার গোশতও। ইতোপূর্বে মুত্‘আহ্ বিবাহ্ জায়েয (বৈধ) ছিলো।

‘মুত্ব‘আহ্ বিবাহ্’ হচ্ছে- নির্ধারিত সময়সীমার জন্য নির্ধারিত মহর (তথা অর্থ)-এর বিনিময়ে বিবাহ্ করা। ওই মেয়াদ শেষ হলে এ বিবাহের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। পৃথক হওয়ার জন্য তালাক্ব ও ইদ্দত পালনের প্রয়োজন হয় না।

এ’তে সন্দেহ নেই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত্‘আহ্ বিবাহ্ করার অনুমতি ছিলো। তাও এ শর্তে যে, যদি প্রচৃ প্রয়োজন হতো; যেমন মৃত পশু ও শুকরের গোশ্ত খাওয়ার অনুমতি শুধু প্রাণ বাঁচানোর জন্য দেওয়া হয়। এভাবে একান্ত বাধ্য হওয়ার অবস্থায় এর জন্য অনুমতি ছিলো। হযরত ইবনে আবূ আমারাহ্ আনসারী থেকে সহীহ্ মুসলিম শরীফে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘‘ইসলামের প্রাথমিক যুগে বাধ্য হয়ে যাবার অবস্থায় মুত্‘আহ্র অনুমতি ছিলো। যেভাবে নিতান্ত প্রয়োজনীয় পরিমাণ মৃত, রক্ত ও শুকরের গোশ্তের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু যখন পরবর্তীতে আল্লাহ্ তা‘আলা দ্বীন-ইসলামকে মজবুত করে দিয়েছেন, তখন এটাও নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।’’

আর সহীহাঈন (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)-এ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘‘আমরা রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধগুলোতে থাকতাম এবং আমরা যুবক ছিলাম। আমাদের সাথে আমাদের স্ত্রীগণ থাকতো না। একবার আমরা রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আরয করলাম, ‘‘আপনি অনুমতি দিলে আমরা আমাদেরকে খাসী করিয়ে নেবো।’’ হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করলেন; তবে অনুমতি দিলেন যেন কাপড় দিয়ে (কাপড়ের বিনিময়ে) একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ্ করে নিই।

মুসলিম শরীফে হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ এবং হযরত সালমাহ্ ইবনে আকওয়া’ থেকেও এ অনুমতির কথা বর্ণিত হয়েছে। সম্ভবত তাতে এ ব্যাখ্যা ছিলোনা যে, অনুমতি কোন্ অবস্থায় দেওয়া হয়েছিলো। প্রকাশ থাকে যে, তাও প্রচন্ড প্রয়োজনের সময়ে ছিলো; কিন্তু এরপর এ অনুমতি প্রত্যাহার করে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরই উপর সমস্ত ইসলামী জগতের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, চরম বিদ্‘আতী সম্প্রদায় রাফেযী (শিয়া) ব্যতীত। তারা এর বিপরীত মত পোষণ করে। হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বাধ্য হয়ে যাবার অবস্থায় তা বৈধ হবার পক্ষে ফাত্ওয়া দিতেন; কিন্তু পরবর্তীতে তিনিও তা থেকে ফিরে এসেছেন এবং অন্য সবার মতো ‘হারাম’ বলতে লাগলেন।

অবশ্য এ’তে মতবিরোধ রয়েছে যে, এটা (মুত্‘আত বা সাময়িক বিবাহ্) কখন হারাম হয়েছে? কেউ কেউ বলেছেন, ‘খায়বারের যুদ্ধে (হারাম হয়েছে)।’ কেউ কেউ বলেছেন, ‘ওমরাতুল ক্বাযা (হুযূর-ই আকরাম-এর, হুদায়বিয়ার সন্ধির পরবর্তী বছরে ক্বাযাকৃত ওমরাহ্)’র সময়। কেউ কেউ বলেছেন, ‘মক্কা বিজয়ের সময়’। কেউ কেউ বলেছেন, ‘আওত্বাস যুদ্ধের সময়।’ কেউ কেউ বলেছেন, ‘বিদায় হজ্জের সময়।’ এ’তে লক্ষণীয় যে, আওত্বাস যুদ্ধের বছর ও মক্কা বিজয় একই বছরে সংঘটিত হয়েছে। অবশ্য এও হতে পারে যে, বিদায় হজ্জ ও ওমরাতুল কাযার নিষেধ পূর্ববর্তী (খায়বারে যুদ্ধের সময়কার) নিষেধের তাকীদ ছিলো এবং পুনরায় ঘোষণা ছিলো; নতুন কোন নিষেধ ছিলোনা। এতদ্ভিত্তিতে, এ বিরোধটা থেকে যাচ্ছে যে, মুত্‘আহ্ কি খায়বারে হারাম হয়েছে, না মক্কা বিজয়ের সময়। কারণ মক্কা বিজয়ের সময় মুত্‘আহ্র অনুমতিও দেওয়া হয়েছিলো এবং কার্যতও মুত্‘আহ্ করা হয়েছিলো। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ-

বোখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, ‘‘রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম খায়বারে, মুত্‘আহ্-নিকাহ্ করতে নিষেধ করেছেন। আর গৃহপালিত গাধার গোশ্ত খেতেও নিষেধ করেছেন।’’ এ বর্ণনা একাধিক উত্তম সনদ বা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ’তেও সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে, মুত্‘আহ্-বিবাহ্ খায়বারে নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে জটিলতা এখানে যে, একাধিক বিশুদ্ধ সনদে সহীহ্ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, এরপর মক্কা বিজয়ের সময় রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মক্কায় মুত্‘আহর অনুমতি দিয়েছেন এবং তিনদিন পর তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সুতরাং প্রশ্ন জাগছে যে, যদি এ বিবাহ্ খায়বারে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়, তবে মক্কা বিজয়ের সময় এর অনুমতিটা কোন্ পর্যায়ে পড়ে?

খায়বারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে ৭ম হিজরীর প্রথম ভাগে। আর মক্কা বিজয় হয়েছে ৮ম হিজরীতে। মক্কা বিজয়ের পর সংঘটিত হয়েছে আওত্বাসের যুদ্ধ। হযরত সালমাহ্ ইবনে আক্ওয়াহ্’ রাদ্বিয়াল্লাহ্ তা‘আলা আনহু থেকে মুসলিম শরীফে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আওত্বাসের যুদ্ধের বছর তিনদিনের জন্য মুত্‘আহর অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আর মুসলিম শরীফেই হযরত রবী’ ইবনে সাবুরাহ্ থেকে একাধিক সূত্রে (সনদে) বর্ণিত যে, তাঁর পিতা সাবুরাহ্ ইবনে মা’বাদ জুহানী বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মুত্‘আহ্র অনুমতি দিলে আমি ও আমার গোত্রের অন্য এক লোক বনী আমিরের এক নারীর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আর আমি আমার সাথীর চেয়ে সুশ্রী ছিলাম। আমাদের উভয়ের নিকট চাদর ছিলো। কিন্তু আমার চাদরটি ছেঁড়া ছিলো। আর আমার সাথীর চাদরটি নতুন ও উত্তম ছিলো। ওই নারীকে প্রস্তাব দেওয়া হলো, ‘তুমি কি এতে রাজি আছো যে, আমাদের উভয়ের মধ্যে কোন একজনের সাথে মুত্‘আহ্ করবে?’ সে বললো, ‘‘কি দেবে?’’ আমরা বললাম, ‘‘চাদর।’’ তারপর আমরা আপন আপন চাদর বিছিয়ে দিলাম। সে যখন আমার সাথীর চাদরটি দেখলো, তখন সেটা পছন্দ করলো। তারপর আমাকে পছন্দ করলো। তা এভাবে যে, কিছুক্ষণ যাবৎ সে উভয় চাদর ও আমাদের উভয়ের দিকে তাকাতে লাগলো। তারপর আমার দিকে ইঙ্গিত করে বললো, ‘‘এ ব্যক্তি ও তার চাদর আমার জন্য যথেষ্ট।’’ আমি তার সাথে তিনদিন যাবৎ অবস্থান করলাম। তারপর হুযূর-ই আক্রাম নিষেধ করে দিলেন। আর এরশাদ করলেন, ‘‘কারো নিকট এমন নারী থাকলে তাকে যেন পৃথক করে দেওয়া হয়। আর তোমরা যা কিছু তাদেরকে দিয়েছো, তা ফেরৎ নিওনা।’’
এটাই হযরত সাবুরাহ্ ইবনে মা’বাদ বর্ণনা করছেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর যখন আমরা মক্কায় প্রবেশ করলাম, তখন হুযূর-ই আক্রাম মুত্‘আহর অনুমতি দিলেন। তারপর মক্কা থেকে বেরিয়ে যাবার পূর্বেই তা করতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন।

পর্যালোচনা
খায়বারের নিষেধ, তারপর মক্কা বিজয়ের সময় অনুমতি দেওয়া ও নিষেধ করা এ উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে গিয়ে ফক্বীহ্ ওলামা (ইমামগণ)-এর মধ্যে কিছুটা মতভেদ দেখা যায়-

ইমাম মাযরী ও ক্বাযী আয়ায বলেন, ‘‘মুত্‘আহ্ খায়বারে হারাম হয়েছে। হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর বর্ণনা নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য লোকদের মাধ্যমে বর্ণিত। আর ওমরাতুল ক্বাযা কিংবা মক্কা বিজয় অথবা আওত্বাসে যেই নিষেধ এসেছে, তা ওই খায়বারে কৃত নিষেধের তাকীদ ছিলো, নতুন কোন নিষেধ ছিলো না।’’

কিন্তু ইমাম নাওয়াভী বলেন, উপরিউক্ত অভিমত ওইসব সহীহ্ রেওয়াতের পরিপন্থী, যেগুলোতে মক্কা বিজয়ের সময় মুত্‘আহ্-এর অনুমতি দেওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।

অবশ্য কাযী আয়ায এও বলেছেন, কোন কোন আলিম (ইমাম) বলেছেন, ‘‘হযরত আলীর উপরিউক্ত বর্ণনায় মুত্‘আহ্ হারাম হওয়ার সময়সীমা বর্ণিত হয়নি; বরং শর্তহীন (মুত্বলাক্ব) রাখা হয়েছে। আর তাতে শুধু গৃহপালিত গাধার গোশ্ত হারাম হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মুত্‘আহ্ হারাম হয়েছিলো মক্কা বিজয়ের সময়। খায়বারে হারাম হয়নি।’’ ইবনে ক্বাইয়্যেমও বলেছেন যে, এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। এ প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, হযরত আলীর বর্ণনা বোখারী এবং মুসলিমেও আছে; মুসনাদে ইমাম আহমদও রয়েছে।

বোখারী ও মুসলিমের বর্ণনার শব্দগুলো থেকে এটা মনে হয় যে, মুত্‘আহ্ হারাম হবার সময় হচ্ছে খায়বার; কিন্তু মুসনাদে ইমাম আহমদের বর্ণনার শব্দাবলী এ মর্মে স্পষ্ট অর্থবোধক যে, গৃহপালিত গাধাগুলোর গোশ্ত খাওয়া খায়বারে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে আর মুত্‘আহ্ হারাম হবার সময়টুকু শর্তহীন; সেটার সময়টুকুর কথা তাতে বলা হয়নি। সুতরাং মুত্‘আহ্ খায়বারে নয় বরং সর্বপ্রথম মক্কা বিজয়ের সময় হারাম হয়েছে; কিন্তু এ ব্যাখ্যায় বোখারী ও মুসলিম (সহীহাঈন)-এর বর্ণনাগুলোকে বর্জন করা কিংবা সেটার সুস্পষ্ট মর্মার্থটি বর্জন করা অনিবার্য হয়ে যায়।

ইমাম শাফে‘ঈ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বলেন, মুত্‘আহ্ প্রথমে মুবাহ্ ছিলো, খায়বারে হারাম হয়েছে। তারপর মক্কা বিজয়ের সময় মুবাহ্ হয়েছে; তিনদিন পর আবার হারাম হয়েছে। অর্থাৎ মুবাহ্ হওয়া ও হারাম হওয়া উভয়টি বারংবার হয়েছে। ইমাম নাওয়াভী বলেন, এটাই পছন্দনীয় ও বিশুদ্ধ অভিমত।

ইবনে আবী আমরার বর্ণনায় একথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইসলামের প্রারম্ভিককালে যখন মুত্‘আহর অনুমতি ছিলো তখনও ওই অনুমতি ব্যাপকভাবে ছিলো না বরং বাধ্য হয়ে যাওয়ার সময় অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো। সুতরাং বাধ্য না হলে তখনও তা নিষিদ্ধই ছিলো। হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেছেন, হুযূর-ই আক্রাম খায়বারে মুত্‘আহকে হারাম করেছেন, এ থেকে সন্দেহাতীতভাবে বুঝা যায় যে, হযরত আলী মক্কা বিজয়ের পূর্বেও সেটাকে ‘নিষেধ’ মনে করতেন; কিন্তু ‘নিষেধ’ সবসময় হারাম করার জন্য হয় না, তাই হযরত ইবনে আব্বাস তখনও সেটা জায়েয বলে ফাতওয়া দিতেন; যেমন হযরত ওরওয়াহ্ ইবনে যোবায়রের বর্ণনা থেকে, যা সহীহ্ মুসলিমে রয়েছে, বুঝা যায়। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিনে হুযূর-ই আকরাম স্পষ্টভাবে মুত্‘আহ্ বিবাহ্ হারাম হওয়া চিরস্থায়ী বলে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং মুসলিম শরীফে ওই সাবুরাহ্ ইবনে মা’বাদের বর্ণনা রয়েছে, যাতে হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ করেছেন-
يَآاَيُّهَا النَّاسُ اِنِّىْ قَدْ كُنْتُ اذَنْتُ لَكُمْ فِى الْاِسْتِمْتَاعِ مِنَ النِّسَآءِ وَاِنَّ اللهَ قَدْ حَرَّمَ ذلِكَ اِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
অর্থ: হে লোকেরা! নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য নারীদের সাথে মুত্‘আহ্ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। আর (এখন) নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা সেটা ক্বিয়ামত পর্যান্তের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। [আসাহ্হুস সিয়ার ও হাশিয়া-ই বোখারী]

হযরত শায়খ মুহাক্বক্বিক্ব দেওহলভী তাঁর মাদারিজুনুœবুয়ত-এ লিখেছেন, মুত্‘আহ্কে হারাম সাব্যস্ত করা খায়বারের যুদ্ধেরই ঘটনা। ইসলামের শুরু থেকে খায়বারের যুদ্ধের সময় পর্যন্ত মুত‘আহ্ মুবাহ্ ছিলো। এরপর খায়বারের যুদ্ধের সময় মুত‘আহ্কে হারাম করা হয়েছে। এরপর এ খায়বারের যুদ্ধ থেকে মক্কা বিজয়, অর্থাৎ আওত্বাসের যুদ্ধের দিন পর্যন্ত মুত্‘আহকে পুনরায় মুবাহ্ করা হয়েছিলো। আওত্বাসের দিনটি মক্কা বিজয়ের পরবর্তী ছিলো সেটা মক্কা বিজয়ের অব্যবহিত পরে সংঘটিত হয়েছিলো বলে সেটাকেও মক্কা বিজয়ের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর তিনদিন পর চিরস্থায়ীভাবে মুত্‘আহকে হারাম করা হয়েছে। এ হারাম হওয়া একেবারে স্থায়ী, এটাই আহলে সুন্নাতের সর্বসম্মত অভিমত। ভ্রান্ত রাফেযী শিয়ারাই এর বিরোধিতা করে। [মাদারিজুন্নুবয়ত]

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শিয়া ফির্কা একটি মহাভ্রান্ত ফির্কা। এদেরকে কাফির না বলার উপায় নেই। তাদের মারাত্মক গোমরাহীপূর্ণ আক্বীদা ও কর্মকান্ডের মধ্যে মুত্‘আহ্ (সাময়িক বিবাহ্)-এর মত হারাম কাজকে হালাল (বৈধ) বলে বিশ্বাস করা এবং নির্দ্ধিধায় তা সম্পাদন করা অন্যতম।

আরো উল্লেখ্য ও লক্ষণীয় যে, ইদানিং ইরানের শিয়ারা এদেশে ওই ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারের নানা কৌশল অবলম্বণ করে যাচ্ছে। তারা প্রচুর অর্থের বিনিময়ে এ দেশে এজেন্ট নিয়োগ করেছে শিয়া মতবাদ প্রচারের জন্য। তারা ইতোপূর্বে এদেশের কিছু কিছু মাযার-দরবারের অর্থলোভী লোকদের মাধ্যমে এ দেশে শিয়া মতবাদ প্রচারের পাঁয়তারা চালিয়েছিলো। সৌভাগ্যক্রমে ওলামা-ই আহলে সুন্নাত এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ায় তারা সফলকাম হতে পারেনি। কিন্তু অতি দুঃখের হলেও সত্য যে, অতি সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রামের জনৈক পীর সাহেবকে ইরানী শিয়াদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। লোকটি নিজেকে সুন্নী আলিম/পীর হিসেবে প্রকাশ করলেও সুন্নী সমাজে নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে আগে থেকেই চিহ্ণিত হয়ে আছে। লোকটি প্রথমে এক মৌলভীকে তৈরী করে এ কাজের জন্য নিয়োগ করেছিলো; কিন্তু তাদের দুর্ভাগ্যক্রমে ওই লোকটি ‘মুর্তাদ্দ হিসেবে চিহ্ণিত হয়ে যায়। তারপর ইদানিং তার নিজের ছেলেকে নাম বদলিয়ে দিয়ে শিয়াদের আদলে তথাকথিত ‘ইমাম’ সাজিয়ে শিয়া মতবাদ প্রচারের সাব-এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করে। এখন তাদের কর্মসূচি হচ্ছে প্রথমে টাকার বিনিময়ে সুন্নী সরলমনা কিংবা অর্থলোভী আলিম-মৌলভীদের দলে ভেড়ানো, আর মুত্‘আহ্ (সাময়িক বিবাহ্ তথা বেশ্যা বৃত্তির ব্যবস্থা)’র মাধ্যমে তরুণ-যুবকদের দলভুক্ত করা। তারপর এদেশে শিয়া মতবাদের প্রচার-প্রসার করা। তাই এদের থেকে মুসলিম সমাজের সচেতন ও সজাগ থাকা দরকার।