আত্শ বাজি

0

আত্শ বাজি ==

বিয়ে-শাদী, শবে-বরাত ও পবিত্র ঈদ প্রভৃতি উপলক্ষে অনেক জায়গায় এক শ্রেণীর অসাধু লোকেরা আত্শবাজি, ফটকাবাজি ইত্যাকার মাধ্যমে ধর্মীয় দিবসের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করার পাশাপশি আনন্দ উল্লাসের নামে বিপুল পরিমাণে অর্থ অপচয় করে। আ’লা হযরত এ সব অনর্থক ক্রিয়াকাণ্ড প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য মুসলিম জনসাধারণকে আহবান করেন। এ বিষয়ে তিনি পুস্তকও রচনা করে যান। যার শিরোনাম এ যে, ‘‘হাদীয়ূন্নাছ ফী রুছুমীল আরাছ’’।

বস্তুত আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা মুসলিম সমাজের প্রতিটি অঙ্গনে মুসলমানদেরকে অপব্যয় করা থেকে বাধা দিয়েছেন। যে অপব্যয়ের দরুন তাদের অর্থনৈতিক জীবন পর্যুদস্ত হতে বাধ্য। তিনি কুসংস্কারকে দ্বীন ও সমাজ জীবনে এক মহাব্যাধি বলে মনে করতেন। যে কারণে মানুষ সত্য ও ন্যায় গ্রহণ করার আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। তিনি এক স্থানে লিখেছেন যে, ‘‘আত্মা যতোক্ষণ পরিষ্কার থাকবে, সত্যের দিকে আহবান করবে, আর গুনাহ্ এবং বিশেষ করে সমাজ দেহে কুসংস্কারের আধিক্যের দরুন (আত্মাকে) অন্ধ করে দেয়া হয়। তখন তা দ্বারা হক বা ন্যায় দেখার, বুঝার বা এ নিয়ে চিন্তা করার যোগ্যতা থাকে না। তখন কিন্তু ন্যায়ের বাণী শ্রবণ করার যোগ্যতাটুকুই অবশিষ্ট থাকে।’’ [মুহাম্মদ মোস্তফা রেযাঃ ‘মালফুজাত-ই-আ’লা হযরত’ (৩য় খণ্ড) পৃষ্ঠা-৫৪]

মাওলানা আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি প্রত্যেক কালেমাধারী ব্যক্তিকে মুসলমান বলে জানতেন। সে সাথে তার মাঝে ইসলামের বিধি-বিধান প্রতিফলন হওয়াকে তিনি পছন্দ করতেন। যে পর্যন্ত তার কথা ও কর্ম শরীয়ত তথা ধর্মের বিরুদ্ধে না হতো, সে পর্যন্ত তিনি তাকে ছেড়ে দিতেন অর্থাৎ মুসলমান বলে জানতেন।

তিনি প্রত্যেক ঐ ব্যক্তিকে যে ধর্মে নতুন নতুন কথা (যা শরীয়ত বিরোধী) প্রবেশ করাতো ‘বিদ্আতী’ বলে সাব্যস্থ করতেন। আর ঐ ব্যক্তির কঠোর সমালোচনায় অবতীর্ণ হতেন যিনি সংস্কারের নামে ভ্রান্ত নতুন পথ ও মত ধর্মে আবিষ্কার করতেন। আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি সামাজিক মূল্যবোধের বিপরীতে যাবতীয় রসম- রেওয়াজ (যা সমাজে প্রচলিত দেখা যায়) এর উপর বিরূপ সমালোচনা করতে কখনো কুণ্ঠিত হননি।

এভাবে আ‘লা হযরত রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিকে আমরা ইলমে আক্বাইদ, ইলমে ফিক্বাহ্ ইলমে ইসলাহ্ প্রভৃতিতে একজন সফল মুজাদ্দিদের ভূমিকায় দেখতে পাই। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সংস্কার আমরা প্রত্যক্ষ করি। এভাবে তাঁর ব্যক্তিত্বের মধ্যে একাধারে বহুবিধ গুণের সমাবেশ ঘটেছে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সফলতার উচ্চ শিখরে উপনীত হতে সক্ষম হন। আজ পর্যন্ত তাঁর কলমের উপর কেউ কলম ধরতে সাহস পায়নি। আসুন সব রকমের ভ্রান্তির জাল ছিন্ন করে উদার মনোভাব নিয়ে এ মহান মনীষীর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করি এবং তাঁর শিক্ষা ও আদর্শকে শরীয়তের কষ্টি পাথরে পরীক্ষা করে তাঁর মতাদর্শের অনুসরণ ও অনুকরণ করি। আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দিন। আমীন।