সালাত ও সালাম

0

সালাত ও সালাম 
সালাত ও সালামের প্রচলিত অর্থ দুরূদ শরীফ পাঠ করা। ক্বোরআন মাজীদে দুরূদ শরীফের আয়াতে صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا -এর মাধ্যমে দুরূদ শরীফ পূর্ণাঙ্গ হওয়ার জন্য সালাত ও সালাম এক সাথে হওয়ার বিধানও স্পষ্ট। এ জন্য মুহাক্বক্বিক্বগণ দুরূদ পূর্ণাঙ্গ হওয়ার ব্যাপারে সালাত ও সালাম দু’টাকেই একত্রিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম বদর উদ্দীন ‘আইনী শুধু সালাত উল্লেখ করে দুরূদ শরীফ পড়াকে মাকরূহ বলেছেন; বরং বলেছেন, ‘‘সালাতের সাথে সালামকেও উল্লেখ করতে হবে।’’

ইমাম সাভী বলেন, ‘‘সালাত ও সালাম উভয় উল্লেখ করতে হবে।’’
ইমাম নাওয়াভী ও সালাম ছাড়া শুধু সালাত দিয়ে দুরূদ শরীফ পড়া মাকরূহ বলেছেন। এভাবে আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিসে দেহলভী ‘জাযবুল ক্বুলূব’-এর মধ্যে অধিকাংশ আলিমের মতে সালাম ছাড়া সালাত দিয়ে দুরূদ পড়াকে মাকরূহ বলেছেন। নামাযে দুরূদে ইব্রাহীমীর মধ্যে সালাম না থাকলেও তাশাহ্হুদের সালামের সাথে মিলিত হবার কারণে পূর্ণ দুরূদে পরিণত হয়েছে। এ জন্য নামাযের বাইরে দুরূদে ইব্রাহীমী সালাম ব্যতীত পড়াকে ফক্বীহ্গণ মাকরূহ বলেছেন। তাফসীর-ই ইবনে কাসীরে ইমাম নাওয়াভীর বর্ণনার উপর আলোকপাত করে এবং ক্বোরআনে পাকের আয়াতের হুকুমের প্রতি নযর রেখে বলেন, صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلِّمَ تَسْلِيْمًا ;
ইমাম শাযলী বেশি পরিমাণে দুরূদে ইব্রাহীমী পড়তেন। স্বপ্নে হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পূর্ণ দুরূদ শরীফ পড়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। ওই দুরূদ শরীফ হল দুরূদে ইব্রাহীমী এবং এর সাথে এটা সংযোজন করার জন্য নির্দেশ দিলেন, اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِىُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه তাই দুরূদে ইব্রাহীমী সালাম সহকারে পড়লে পূর্ণ দুরূদ শরীফ হবে। পাশাপাশি দুরূদ শরীফের মধ্যে নবী করীমের বংশধরদেরকেও উল্লেখ করার তাকীদ এসেছে। যেমন বর্ণিত আছে- হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন-
لاَ تُصَلُّوْا عَلَىَّ الصَّلاَةَ الْبَتْرَآءَ فَقَالُوْا وَمَا الصَّلاَةُ الْبَتْرَآءُ قَالَ تَقُوْلُوْنَ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَتُمْسِكُوْنَ بَلْ قُوْلُوْا اَللهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّ عَلى الِ مُحَمَّدٍ
অর্থাৎ তোমরা আমার উপর অসম্পূর্ণ দুরূদ শরীফ পড়ো না। সাহাবা-ই কেরাম আরয করলেন, ‘‘হুযূর, অসম্পূর্ণ দুরূদ কি রকম?’’ উত্তরে হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘‘তোমরা- اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ (আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা- মুহাম্মাদিন) বলে শেষ করে দাও আর আমার বংশধরদেরকে উল্লেখ করছ না; বরং দুরূদ শরীফ পড়ার সাথে সাথে আমার বংশধরদেরকেও উল্লেখ করবে।
আমাদের পাক ভারত উপমহাদেশে সালাত ও সালাম পাঠ করার অর্থ মীলাদ শরীফ পাঠ করাকে বুঝায়। মীলাদ শরীফ-এর মর্মার্থ হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর বেলাদত শরীফ সম্বলিত দুরূদ শরীফের মাধ্যমে পাঠ করা।

পরিশেষে, ক্বিয়ামের মাধ্যমে সালাত ও সালাম পেশ করা, প্রত্যেক শুভ কাজের জন্য এ সালাত ও সালামের ব্যবস্থা করা অতি উত্তম কাজ এবং অধিক বরকতময়। সে হিসেবে এ উপমহাদেশে তা নিয়মিতভাবে সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত হয়ে আসছে। এ হিসাবে এ নিয়মে সালাত ও সালাম পাঠ করাও ইসলামী অনুষ্ঠানাদির অন্যতম কাজ বা অনুষ্ঠান।
—০—

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •