আ’লা হযরত: আশেকে রাসূলের মূর্ত প্রতীক- মুহাম্মদ আবদুল মজিদ

0

আ’লা হযরত: আশেকে রাসূলের মূর্ত প্রতীক
মুহাম্মদ আবদুল মজিদ

হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে- তোমাদের মধ্যে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান ও সকল মানুষ থেকে অধিক প্রিয় হব না। [বুখারী, মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ১২] অর্থাৎ ঈমানদার হওয়ার পূর্বশর্ত হল নবীপ্রেম। আর এই নবীপ্রেম যে মহান ব্যক্তিসত্তার মধ্যে পূর্ণমাত্রায় সন্নিবেশিত হয়েছে তিনি হলেন চতুর্দশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান ফাযেলে বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি। তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ইশক্বে রাসূলে পরিপূর্ণ। তিনি বলতেন, আমার হৃদয়কে দু’টুকরো করা হলে দেখা যাবে এক টুকরোর উপর ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ আর অপর টুকরোর উপর ‘মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ্’ লিপিবদ্ধ রয়েছে।
রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ভালবাসাই ছিলো তাঁর লেখনী ও বক্তব্যের মূল উৎস। প্রায় দেড় সহস্রাধিক রচনার সবগুলোই তাঁর অবিমিশ্র ইশক্বে রাসূলের ধারক। তাঁর অসাধারণ নবীপ্রেম, অস্বাভাবিক প্রতিভা ও জ্ঞান দক্ষতায় বাতিলপন্থিদের স্বরূপ উন্মোচন ও তাদের ভ্রান্ত ধারণার মূলোৎপাটনে তাঁর কলম থেকে বের হতো রসূল প্রেমে সিক্ত অগ্নিঝরা লেখা।
একদিন তাঁর প্রিয় শিষ্য সদরুল আফাযিল আল্লামা নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি মুফতি আহমদ রেযা খান এর নিকট আবেদন করেন, হুযূর! আপনি পুস্তক রচনায় এতো কঠোর হন কেন? যদি আপনি কঠোর ভাষা প্রয়োগ না করেন, তাহলে প্রত্যেক শ্রেণীর লোক আপনার গ্রন্থ পাঠে উপকৃত হতো। ফাযেলে বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এ কথা শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন, আমি বিরোধীদের উক্তি খণ্ডনে কঠোর ভাষা ও রুক্ষ ব্যবহার এ জন্য প্রয়োগ করি, যাতে তারা দরবারে রিসালতের উপর বেয়াদবীপূর্ণ আচরণ ভুলে গিয়ে আমাকে সমালোচনার পাত্র করে। কারণ আমাকে কটাক্ষ করলে আমি বিন্দুমাত্র পরওয়া করি না। তবে এ ফাঁকে তো তারা আমার প্রিয় রাসূলের প্রতি গোস্তাখীপূর্ণ আচরণ করা থেকে বিরত থাকবে।
[ইয়াদে আ’লা হযরত: পৃষ্ঠা-৫৪] তিনি ফানাফির রাসুল (রাসূল প্রেমে বিলীন সত্তা) ছিলেন। তাই তাঁর অতুলনীয় ইশক্ব শক্তি রাসূলে পাকের মর্যাদা হানির আশংকাযুক্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়কেও মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। এমনকি অন্তিম মুহূর্তে তাঁর অনুসারী ও উত্তরাধিকারীদেরকে প্রদত্ত অসিয়তেও তিনি বলেন, ‘‘যার
মধ্যে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের শানে সামান্য বেয়াদবী দেখতে পাবে, সে তোমার যেমনিই প্রিয় হোক না কেন, তাঁর থেকে দ্রুত পৃথক হয়ে যাবে। আর যাকে দরবারে রাসূলের প্রতি বিন্দুমাত্র বেয়াদবী করতে দেখবে, সে যেমনিই মহান বুযুর্গ হোক না কেন, তাকে নিজ অন্তর থেকে দুধে পতিত মাছির ন্যায় বের করে নিক্ষেপ করো।’’ [ওয়াসায়া শরীফ] এছাড়া আ’লা হযরতের ওফাতের নিকটবর্তী সময়ের আরো একটি ওসিয়ত উল্লেখযোগ্য। তিনি ইরশাদ করেন, হে প্রিয়ভাজনরা! আমার ইন্তেকালের সময় হয়েছে। যখন আমার শরীর থেকে রূহ বের হয়ে যাবে তখন তোমরা আমার জন্য এতো গভীর করে কবর খনন করবে যাতে আমি সেখানে দাঁড়াতে পারি। প্রিয়ভাজনরা বললেন, হুযূর! কবর তো এতটুকু গভীর হওয়া উচিত যাতে মৃত ব্যক্তি উঠে বসতে পারে। কিন্তু আপনি এ ধরনের অসিয়ত করছেন কেন? উত্তরে আ’লা হযরত বললেন, আমি হাদীস শরীফে পড়েছি কবরের মধ্যে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনবেন। তাই নবীর প্রতি আমার ভালোবাসা এটা সমর্থন করে না যে, তখন আমি বসে থাকবো। অতএব, তোমরা আমার কবরকে গভীর করে খনন করবে যেন আমি রাসূলে পাককে দাঁড়িয়ে সালাম জানাতে পারি।
কলম সম্রাট আ’লা হযরতের রচিত না’তিয়া কালামসমূহ তাঁর অকৃত্রিম ইশক্বে রাসূলের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। ১৭১ পঙক্তিবিশিষ্ট ক্বসিদায়ে সালাম তাঁর অনবদ্য রচনা। তিনি উক্ত ক্বসিদার শেষোক্ত পঙক্তিদ্বয়ে রচনার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, হাশরের ময়দানে সরকারের আগমনে যখন সবাই তাঁর সমীপে সালাম আরয করতে থাকবে, তখন হুযূরের খিদমতে নিযুক্ত ফিরিশতা আমাকে বলবেন, ‘‘হে আহমদ রেযা! তুমিও ‘মুস্তাফা জানে রহমত পে লাখো সালাম’ পাঠ করো।’’ আর তখনই আমার পরিশ্রম সফল ও সার্থক রূপ লাভ করবে। মোট কথা, আ’লা হযরত হলেন নবী প্রেমের এক উজ্জ্বল নমুনা। তাঁর জীবনের প্রতিটি কর্মেই রাসূলে পাকের ইশক্ব ও ভালোবাসা দিবালোকের ন্যায় সমুজ্জ্বল। আল্লাহ্ আমাদেরকে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযার সদক্বায় ইশক্বে রাসূল দান করুন।

বাবা
আ. ফ. ম মোদাচ্ছের আলী

যাঁর কথাতে মধু আছে
যাঁর কথাতে দীক্ষা
যাঁর কথাতে শাসন আছে
যাঁর কথাতে শিক্ষা।

আদর শাসন দুটোই দিয়ে
দেন এগিয়ে তিনি
বিশ্ব সেরা সেই মানুষই
বাবা আমার যিনি।

মায়ের কাছে বকুনি খেলে
বলেন হেসে ওরে
মা যা বলেন সবই সুধা
ভালোবেসে তোরে।

মানুষ হওয়ার মন্ত্রণা পাই
আদর মাখা বুলি
বাবাই সেরা বাবাই আপন
কি করে যাই ভুলি।

ইচ্ছেরা পাপড়ি মেলে
সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার

ইচ্ছেরা আজ পাপড়ি মেলে
আমার ছোট মনে
ঘরের সীমা ডিঙাতে তাই
চাই যে ক্ষণে ক্ষণে।

কুলু কুলু ছন্দ তুলে
বিছিয়ে পলি দুইটি কুলে
ইচ্ছে করে চলতে সেজে
নদীর আভরণে।

দুর আকাশে মিটিমিটি
লক্ষ তারার মেলা
ওদের সাথে আমার মনের
নিত্য চলে খেলা।

বনে পাখির ডাকাডাকি
শুনে আকুল ব্যাকুল থাকি
ইচ্ছে করে পাখি হয়ে
পালিয়ে যেতে বনে।

ইচ্ছেরা আজ পাপড়ি মেলে
আমার ছোট মনে।
বি.দ্র. এই ফরম কেটে পাঠাতে হবে

শরতের কাঁশফুল
মকবুল হামিদ

হাওয়ার তালে হেলেদুলে
নাচছে সদা কাঁশফুল,
তাদের সাথে তালে তালে
দুলছে আরো ঘাসফুল।

তাদের মুখে হাসির ঝিলিক
উঁকি মারে রোজ,
কাঁশফুলেরা করছে বুঝি
প্রিয়জনের খোঁজ।

মৃদু বাতাস কাছে আসে
একটু ছোঁয়া পেতে,
সবে মিলে নানান খেলায়
রইবে সদা মেতে।

কি অপরূপ রূপের বাহার
দেখতে লাগে বেশ,
লাজুক মুখে ঘুমটা পড়ে
বেলার অবশেষ।

মায়ের হাসি
আমিন আল্ আসাদ

মাঠ পেরিয়ে ঘাট পেরিয়ে
সবুজ ঘাসের বাট পেরিয়ে
ওইতো আমার গাঁ,
ওই যে সবুজ মাঠের পরে
পাতায় গড়া ছোট্ট ঘরে
থাকেন আমার মা।

শহর থেকে আমি যখন
গাঁয়ের বাড়ি ফিরি তখন
মায়ের মুখের হাসি
আনন্দ আর খুশির মালা
দেয় ভুলিয়ে দুঃখ-জ্বালা
বাজায় সুখের বাঁশি
আমার মায়ের এমন হাসির তরে
অপেক্ষাতে থাকি বছর ভরে।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •