মু‘আল্লিমের জন্য জরুরী বিষয়সমূহ

0

১. সুন্নী আকিদা সম্পন্ন মসলকে আলা হযরতের সঠিক অনুসারী হওয়া।
২. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ওলামাযে কেরামের সম্মান প্রতি প্রদর্শন করা এবং তাঁদেরকে খাটো না করা। তাঁদের ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা থেকে বিরত থাকা।
৩. শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতীত জামা‘আতে নামায ত্যাগ না করা।
৪. আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সংবিধান মান্য করা। তাদের সমালোচনা করে তাদের প্রতি মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করা। অবশ্য লিখিত গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে।
৫. দাওয়াতে খায়রের কাজ করতে গিয়ে মা, বাবা,স্ত্রী, ছেলে মেয়ে, আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও অন্যান্যদেরকে অসন্তুষ্ট করা থেকে বিরত থাকা। তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা। দাওয়াতে খায়রের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করে উৎসাহ্ প্রদানপূর্বক দাওয়াত খায়রের কাজ নিজে করবেন এবং তাদেরকেও অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন।
৬. মিথ্যা কথা, ওয়াদাভঙ্গ, চোগলখোরী, গালিগালাজ, কটুবাক্য ব্যয়, ঝগড়া-বিবাদ ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা।
৭. দুশ্চরিত্র, বদমেজাজ, বাচাল, নির্লজ্জ ও জগড়াটে না হওয়া এবং অসৎ সঙ্গ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
৮. শুধু কথার পন্ডিত না হয়ে নিজের বয়ানের উপর আমল করার ক্ষেত্রে পূর্ণ আন্তরিক হওয়া।
৯. দাওয়াতে খায়রের কর্মসূচিগুলো এবং গাউসিয়া কমিটির বিভিন্ন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
১০. দাওয়াতে খায়রের মাহফিলে ক্বোরআন শরীফের তরজমা ‘কানযুল ঈমান ও তাফসীর নুরুল ইরফান’ ও ‘হাদীস শরীফ’ ‘মিরাআতুল মানাযীহ্’ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ্ এবং গাউসিয়া তারবিয়াতী নিসাব সামনে রেখে তা থেকে বয়ান করতে হবে।
১১. মাহফিলের পূর্বে কমপক্ষে তিনবার বিষয়বস্তু পাঠ করে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং সময়ের প্রতিলক্ষ রেখে যথাসময়ে মাহফিল আরম্ভ করে ৩০ মিনিটের মধ্যে মাহফিল সমাপ্ত করতে হবে।
১২. সহীহ্ ক্বিরআত জানা না থাকলে কুরআন শরীফের আয়াত ও হাদীস শরীফ ইবারত পাঠ না করে শুধু অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করবেন। তার শুরুতে কুরআনুল কারীমের যে আয়াত হতে অনুবাদ ও তাফসীর করা হবে তা সহীহ্ ক্বিরাআত জানা কাউকে দিয়ে পাঠ করিয়ে মাহফিলের সূচনা করবেন।
১৩. বয়ানের মধ্যে কঠিন শব্দ এবং কঠিন বিষয়বস্তু নির্বাচন থেকে বিরত থাকবেন, সকল শ্রেণীর মানুষ যাতে বুঝতে সক্ষম হয় সেজন্য সহজভাবে বয়ান করবেন এবং পরকালের চিন্তাচেতনা তৈরী হয় এমন বিষয়বস্তু অগ্রাধিকার দেবেন।
১৪. বয়ানের সময় মু‘আল্লিমের পোষাক পরিচ্ছদ ও চেহারায় সুন্নাতের অনুসরণ আবশ্যক। সম্ভব হলে টুপির উপর পাগড়ি শরীফ সাজিয়ে রাখবেন।
১৫. বয়ানে কারো কারো নাম নিয়ে সমালোচনা করবেন না। কারণ এতে সংশোধনের চেয়ে ক্ষতির আশংকা বেশী থাকে। তবে আক্বায়েদে আহলে সুন্নাতের হেকমতের সাথে উপস্থাপন করবেন। বদ আকিদার অনুসারীদের সাথে আমলগত যে পার্থক্য রয়েছে তা তাদের নাম ধরে সমালোচনা বা খন্ডন ব্যতীত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবেন।
১৬. আনজুমান, গাউসিয়া কমিটি এবং দাওয়াতে খায়র কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রকাশিত সকল প্রকার প্রকাশনা সংগ্রহ করে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে চেষ্টা করবেন। সুন্নী ওলামাযে কেরামের কিতাব, সুন্নী আলেম কর্তৃক অনূদিত ব্যতীত পাঠ করা থেকে বিরত থাকবেন। অবশ্যই মাসিক তরজুমান-এ আহলে সুন্নাত সংগ্রহ করে নিজে পড়ে অন্যকে পড়ার জন্য উৎসাহিত করবেন।
১৭. নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য যাদেরকে দাওয়াত দিচ্ছেন তাদের এবং সকল মুসলমানের দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকতার সাথে দো‘আ করতে থাকবেন। কেননা, দো‘আ মু’মিনের হাতিয়ার।

প্রচারে : দাওয়াতে খায়র কেন্দ্রীয় দপ্তর
আলমগীর খানকাহ্ শরীফ, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •