চার ইমামের দৃষ্টিতে ওসিলা- মাওলানা আবু তৈয়ব চৌধুরী

0

ওয়াসিলা (وسيله) আরবি শব্দ। এর অর্থ উপায়, উপকরণ, নৈকট্য, মর্যাদা, অবস্থান, ব্যবস্থা, মাধ্যম যা দ্বারা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছা যায়। তাজুল আরূস গ্রন্থকার বলেন-
قال ابن الاثيرهى فى الاصل ما يتوسل به الى الشئ ويتقربه-
ইবনুল আছীর বলেন, ওসিলা মূলত যা দ্বারা কোন কিছুর কাছে পৌঁছা যায় বা নৈকট্য হাসিল করা যায়। আল্লামা আলূসী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন-
”الوسيلة هى ما يتوسل به ويتقرب الى الله عزوجل من فعل الطاعات وترك المعاصى“
ওসিলা হলো, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়, যেমন- নেক আমল করা এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগ করা। আর তাওয়াস্সুল অর্থ হলো মাধ্যম খোঁজা। মহান রাব্বুল আলামীন ঈমানদারদেরকে তার কাছে পৌঁছার জন্য ওসিলা তালাশ করতে বলেছেন। ঈমানের পাশাপাশি ভাল কাজ করা এবং ঈমান বিনষ্টকারী আমল থেকে বেঁচে থাকা যেমন ওসিলা, তেমনি নবী-রাসূল এবং আল্লাহ্র মাকবুল নেককার বান্দাহ্রাও আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের ওসিলা। নবী-রাসূলগণের ওসিলাতেই বিশ্ববাসী আল্লাহকে চিনতে পেরেছেন। এরপর তাঁদের উত্তরাধিকারী আউলিয়ায়ে কেরামগণের ওসিলাতেই পথহারা উম্মত আল্লাহ্র পরিচয় লাভ করেছে। আল্লাহ্ তা’আলা মানব জাতির হেদায়তের জন্য দুটি ধারাকে আবশ্যক করে দিয়েছেন- তা হলো যথাক্রমে কিতাবুল্লাহ্ ও রিজালুল্লাহ। কিতাবুল্লাহ্ তথা আসমানী নাযিলকৃত কিতাবসমূহ। আর রিজালুল্লাহ্ হলো, নবী-রাসূল ও আউলিয়ায়ে কেরামদেরকে ঝুনানো হযেছে। এ দু’ধারার কোনটিকে অবজ্ঞার সুযোগ নেই।
আমরা দৈনিন্দিন জীবনে প্রায় নানা হতাশা, নিরাশা, বিপদ-আপদ ও বিপযর্য়ের সম্মুখীন হই। তখন তা থেকে পরিত্রাণ লাভের নিমিত্তে দো‘আ, মুনাজাত স্বীয় সৎ আমল, আল্লাহ্র একান্ত প্রিয়ভাজন ও নৈকট্যশীল বান্দাহদের ওসিলা গ্রহণ করে আল্লাহ্র নিকট দু’হাত তুলে দো‘আ করা আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি, নিত্য-নৈমিত্তিক আমলও। এটা হলো বৈধ, শরিয়ত অনুমোদিত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
ইসলামে তাওয়াস্সুল ও ওসিলা
ওসিলা শরিয়তসম্মত জায়েয। কারো মতে মুস্তাহাব।

কারো মতে ওয়াজিব। এমর্মে আল্লাহ্র বাণী-
يَااَيُّهَا الذين اَمَنُوْا اتقوا الله وابتغوا اليه الوسيلة- (سورة المائده- ৩৫)
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য ওসিলা তালাশ করো।
[সূরা মায়িদা: ৩৫] ওসিলা সম্পর্কে মতবিরোধ
ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেউ ওসিলার বৈধতার ব্যাপারে আপত্তি করেননি। কুফর, শিরক ও বিদআত বলাতো দূরের কথা কেউ নাজায়েয পর্যন্ত বলেননি। ওসিলা সম্পর্কে মতবিরোধের সূচনা সম্পর্কে فيضل القدير কিতাবে আবদুর রউফ মুনাভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (১০৩১হি.) ইমাম তকী উদ্দীন সুবকী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর বাণী এভাবে বর্ণনা করেন-
وَيُحْسِنُ التَوَسُّلُ وَالاِسْتِعَانَةِ وَالتَشَفِعُ بِالنبى صلى الله عليه وسلم اِلَى رَبِّهِ وَلَمْ يَنْكِرْ ذَالِكَ اَحَدٌ جَاءَ اِبْنُ تَيَمِيَةَ فَانكَر ذَالكَ-
স্বীয় প্রভুর কাছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসিলা দেওয়া, তাঁর মাধ্যমে সাহায্য কামনা করা এবং তাঁর সুপারিশ কামনা করা ভাল। ইবনে তাইমিয়য়া আসার পূর্বে কোন পূর্বসূরি আলেম এটাকে মন্দ কাজ বলেননি বরং তিনি এটাকে প্রথম মন্দ বিদ‘আত বলেন। মুনাবী, যাইনুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে তাজুল আরেফীন (১০৩১ হি.), ফায়জুল ক্বাদীর শরহু জামিউস সগীর, বৈরুত। দারুল কুতুবিল ইসলামিয়া, প্রকাশ-১৪১৫ হিজরি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭০।
ওসিলার শ্রেণিবিন্যাস
ওসিলা প্রথমত ২ প্রকার। ১. অবৈধ ওসিলা, ২. বৈধ ওসিলা।
অবৈধ ওসিলা
কেউ যদি আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতীত মাধ্যম বা ওসিলাকেই মূল দাতা মনে করে তবে এটা নিঃসন্দেহে হারাম। কেননা এতে গাইরুল্লাহ্র ইবাদত করা হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ক্বোরআনের বাণী-
وَالَّذِيْنَ اَتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهِ اَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ اِلَّا لِيُقَرِّبُوْنَا اِلىَ اللهِ زُلفى-
আর যারা আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে অলী (অভিভাবক) রূপে গ্রহণ করেছে (তারা বলে) আমরা তো এদের ইবাদত এজন্যই করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর নিকট পৌঁছে দেবে। [সূরা যুমর: আয়াত-৩] এ আয়াতটি কাফির-মুশরিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়। যারা মূর্তিপূজা করত। এবং মূর্তিগুলোকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ওসিলা মনে করত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, কোন কোন (জ্ঞানপাপী) ব্যাখ্যাকার মুশরিক কাফিরের ক্ষেত্রে নাযিলকৃত আয়াতটি মুসলমানদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে চলেছেন। আর বৈধভাবে ওসিলা বা শাফাআত প্রত্যাশী মুসলমানদেরকে নিন্দা করে চলেছেন।
বৈধ ওসিলা: বৈধ ওসিলা হলো, একমাত্র আল্লাহকে মূলদাতা মনে করা।
চার ইমামের দৃষ্টিতে ওসিলা
ইমাম আ’যম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ১৫০ হি.) তাঁর রচিত বিখ্যাত না’ত ‘কসীদায়ে নু’মান’ এ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসিলা দিয়েছেন। যেমন-
১. يَامَالِكِىْ كُنْ شَافِعِىْ فَاقْنِىْ- اِنِّى فَقِيْرٌ فِى الوَرَى لِغِنَاكَ
২. يَااَكْرَمَ الثَقَلَيْنِ يَاكَنْزَ الوَرَى- جَدِّلِى بِجُوْدِكَ وَاَرْضِنِىْ بِرِضَاكَ
৩. يَاطَامِعَ بِالجُوْدِ مِنْكَ لَمْ يَكُنْ- لِاَبِىْ حَنِيْفَةِ فِى الاَنَامِ سِوَاك-
১. হে আমার মালিক! আমার প্রয়োজনকালে আপনি আমার সুপারিশকারী। সমগ্র পৃথিবীতে আমি আপনার ঐশ্বর্যের (ধনাঢ্যের) সবচেয়ে বড় মুখাপেক্ষী।
২. হে জীন ইনসানের সবচেয়ে সম্মানের আঁধার, হে মানবকুলের ধন-ভাণ্ডার। আমাকে আপনার দানে ধন্য করুন এবং আপনার সন্তুষ্টি দানে ধন্য করুন।
৩. (ওহে প্রিয় রাসূল)! আমি আপনার করুণা ও বদান্যতার প্রত্যাশী। আপনি ছাড়া এ জগতে আবু হানিফা’র আর কেউ নেই। [কাসীদায়ে নূ’মান: পৃষ্ঠা ২০০] ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এমর্মে আরও বলেন- হে মহান ইমামগণের ইমাম! আমি অন্তরে ইচ্ছা নিয়ে আপনার সন্তুষ্টি ও আশ্রয় লাভের জন্য আপনার কাছে এসেছি। [কাসীদায়ে নূ’মান: পৃষ্ঠা ২০০] সুতরাং তার দৃষ্টিতে ওসিলা ওধু জায়েয নয়, বরং এটা মুক্তি ও নাজাত লাভের উত্তম অবলম্বন প্রমাণ করেছেন।
ইমাম মালেক রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত১৭৯ হি.)
কাযী ইমাম আয়াজ রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৫৪৪ হি.) কিতাবুশ্ শিফা বি তারিফী হুকুকিল মোস্তফা ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১ বর্ণনা করেন- এক দিন খলিফা আবু জা’ফর মনসুর মদীনা আগমন করলেন। তিনি ইমাম মালেক রাহমাতুল্লাহি আলায়হিকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবদুল্লাহ্! আমি রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা জেয়ারতের সময় ক্বিবলামুখী হয়ে দো‘আ করব, নাকি প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে মুখ করবো? তখন ইমাম এর উত্তর দিলেন-
فَقَالَ وَلَمْ تَصْرِفْ وَجْهَكَ عَنْهُ وَهَوَ وَسِيْلَتُكَ وَوَسِيْلَةِ اِبِيْكَ اَدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامِ اِلَى اللهِ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ بَلْ اَسْتَقْبَلَهُ وَاَسْتَشْفَعَ بِهِ فَيَشْفَعُهُ اللهُ تَعَالى قَال اللهُ ”وَلَوْ اَنْتُمْ اِذْ ظَلَمُوْا اَنْفُسَهُمْ الاية“-
অতঃপর তিনি বলেন, হে আমীর! আপনি কেন রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে মুখ ফিরাবেন, অথচ তিনি আপনাদের জন্য এবং আপনাদের সর্বপ্রথম পূর্বপুরুষ আদম আলায়হিস্ সালাম এরও কিয়ামতের দিন ওসিলা হবে। সুতরাং আপনি রাসূল করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে মুখ করুন এবং তাঁর মাধ্যমে শাফায়াত কামনা করুন। আল্লাহ্ তাঁর সুপারিশ কবুল করবেন। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেন- যদি তারা নিজেদের আত্মার উপর জুলুম করে এর পর তারা আপনার খেদমতে হাজির হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তাহলে তারা আল্লাহকে অবশ্যই তাওবা কবুলকারী ও অশেষ দয়ালু হিসেবে পেত।
ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ২০৪হি.)
তারীখে বাগদাদ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৩-এ খতিব বাগদাদী বর্ণনা করেন, ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বাগদাদে অবস্থান কালে ইমাম আ’যম ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর মাজার জেয়ারত করতেন। আর দো‘আতে তাঁকে ওসিলা বানাতেন। যেমন শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর বাণী- যা ফতওয়ায়ে শামীতে বিদ্যমান-
انى لاتبرك بابى حنيفة واجئ الى قبره كل يوم يعنى زرئرًا فاذا عرضت لى حاجة صليت ركعتين وجئت الى قبره وسألت الله تعالى الحالجة عنده فما تبعد عنى حتى تقضى-
আমি ইমাম আবু হাফিনা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর দ্বারা বরকত লাভ করি এবং প্রত্যহ তার কবর জিয়ারতে আসি। যখন আমি কোন মুশকিলে পড়ি, তখন দু’রাকাত নামায পড়ে তাঁর রাওজা শরীফে আসি এবং তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে হাজত পূরণের জন্য আল্লাহ্র দরবারে দো‘আ করতে থাকি। অতঃপর আমি সেখান থেকে আসতে না আসতেই আমার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যেত। এ ছাড়াও তাঁর (ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) প্রসিদ্ধ রচনা ‘আস্সায়িকাতুল মুহরিকা আলা আহলির রাফ্য়ে ওয়াদ্বদ্বালালে ওয়ায্যানদিকাহতে বর্ণিত আছে-
ال النبى ذريعت وهم الله وسيلتى ارجو بهم اعطى غدًا بيدى اليمين صحيفتى-
নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার পরিজন আল্লাহর দরবারে আমার ওসিলা, আমি প্রত্যাশা করছি যে, তাঁদের ওসিলাতে কিয়ামতের দিন আমার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে।
[ইবনে হাজর হাইতি, আসসাওয়ায়িকুল মুহরিকা: পৃষ্ঠা ১৮০]

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ২৪১হি.)
হযরত ইউসুফ ইবনে ইসমাঈল নাবহানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ১৫০ হি.) ‘‘শাওয়াহিদুল হক ফিল ইস্তেগাছা বে সায়্যিদিল খালাক’’ (পৃষ্ঠা ১৬৬) নামক গ্রন্থে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল কর্তৃক ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হিকে ওসিলা বানানোর বিষয় বর্ণিত আছে।
اِنَّ الامام احمد توسل بالامام الشافعى حتى تعجب ابنه عبد الله بن الامام احمد فقال له ابوه ان الشافعى كالشمس للناس وكالعافيه للبدن-
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহমাতুল্লাহি আলায়হি আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর ওসিলা নিয়ে দো‘আ করেছেন, এতে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ্ আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তখন ইমাম সাহেবে বলেন- ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি মানুষের জন্য সূর্য এবং শরীরের জন্য সুস্থতাস্বরূপ।
আল্লাহ্ তা‘আলার নাম মোবারকের ওসিলা নেওয়া
দো‘আর ক্ষেত্রে আল্লাহ্ পাকের নাম ও গুণাবলীর ওসিলা নেয়ার জন্য পবিত্র ক্বোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে-
ولله الاسماءُ الحسنى فادعوه بها-
অর্থাৎ আর আল্লাহ্ তা‘আলার সুন্দর নাম আছে, সুতরাং তোমরা সেগুলোর ওসিলা নিয়ে তাঁকে ডাক।
[সুতরাং আরাফ: ১৮০] তিরমিজী শরীফ ও ইবনে মাযাহ্ শরীফে হযরত বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন-
سَمِعَ النَبِىُّ صلّى الله عليهِ وسَلَّمَ رَجُلًا يَقُوْلُ اللَّهُم اِنِّى اَسْئَلُكَ بَاَنَّكَ اَنْتَ اللهُ الاَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِىِ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا اَحَدٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عليهِ وسلم لَقَدْ سَألَ اللهُ بِاِسْمِهِ الاَعْظَمْ الَّذِىْ اِذا اَسْئِلَ بِهِ اَعْطَى وَاِذَا اَدْعِىَ بِهِ اَجَابَ-
একদিন নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এভাবে বলতে শুনতে পেলেন- হে আল্লাহ্ আমি আপনার নিকট এ ওসিলা নিয়ে প্রার্থনা করছি যে, আপনি আল্লাহ্, আপনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি সন্তান জন্ম দেননি, এবং যাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। এ দো‘আ শুনে নবীজী বললেন- এ ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলাকে তাঁর ইসমে আ‘যমের ওসিলা দিয়ে আহ্বান করেছে, যার ওসিলা দিয়ে দো‘আ করলে তিনি দান করেন এবং যার ওসিলা দিয়ে দো‘আ করলে তিনি সাড়া দেন।
[ইবনে মাযাহ্ ও তিরমিজী শরীফ] এভাবে নবীজী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম, ক্বোরআন তেলাওয়াত, যিকির-আযকার, দরূদ শরীফ, সাদকা-খায়রাত ইত্যাদির মাধ্যমে খোদার কাছে প্রার্থনা করা দো‘আ কবুলিয়্যাতের উত্তম পন্থা, যা শুধু জায়েযই নয় বরং উত্তম।

লেখক: চন্দ্রঘোনা তৈয়্যবিয়া অদুদীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ

শেয়ার
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares