পীর-ই কামিল রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত পেশোয়া-ই আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি)’র ‌‌ ‌‌’নূরানী তাক্বরীর সম্ভার’ থেকে

0

[ধারাবাহিক]

নূরানী তাক্বরীর-এক

اَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ
فَتَلَقّى ادَمُ مِنْ رَبِّه كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ط اِنَّه هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمِ
উচ্চারণ
আ‘ঊ-যু বিল্লা-হিস্ সামী-‘ইল ‘আলী-ম মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজী-ম।
বিস্মিল্লা-হির রাহমা-নির রাহী-ম।
‘ফা-তালাক্বক্বা—আ-দামু র্ম্্ি রাব্বিহী- কালিমা-তিন ফাতা-বা আলায়হি, ইন্নাহু- হুয়াত্ তাওয়া-বুর রাহী-ম।’ [সূরা বাক্বারা : আয়াত ৩৭]

তরজমা
আমি, সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি বিতাড়িত শয়ত্বান থেকে।
আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি, যিনি পরম দয়ালু, করুণাময়।
অতঃপর হযরত আদম আপন রব থেকে কিছু কলেমা শিখে নিয়েছেন। অতঃপর তিনি তার তাওবা ক্ববুল করেছেন। নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত তাওবা কবূলকারী, দয়ালু।
[সূরা বাক্বারা: আয়াত-৩৭, কান্যুল ঈমান]

আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা এরশাদ ফরমায়েছেন
হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম আপন প্রতিপালক হ’তে কিছু কলেমা শিখে নিয়েছেন। অত:পর আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর (হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম-এর) তাওবা কবূল করলেন। নিশ্চয় তিনিই (আল্লাহ্ তা‘আলা) বড় তাওবাহ্ ক্ববূলকারী, অত্যন্ত দয়াবান।

হযরত সাইয়্যেদুনা আদম আলায়হিস সালাম হতে যে বিচ্যুতি প্রকাশ পেয়েছিলো, তিনি ওই বিচ্যুতি ও ভুলের জন্য তিনশ’ বছর যাবৎ ক্রন্দন করতে থাকেন। তাঁর চক্ষুযুগল থেকে এতবেশী অশ্র“ ঝরেছিলো যে, যদি পৃথিবীর সকল লোকের অশ্র“ একত্রিত করা হয়, তবু হযরত আদম আলায়হিস সালাম-এর অশ্র“র  সমপরিমাণ হবেনা। হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম নিজের বিচ্যুতির জন্য এতো বেশী ক্রন্দন করেছেন।
তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর হৃদয়ে এক প্রেরণা জাগ্রত (ইলক্বা) করেছিলেন, তাঁর দয়া হলোÑ হযরত আদম আলায়হিস সালাম-এর স্মরণ হলো (ওই সময়ের কথা), যখন তাঁর কায়ায় রূহ ফুৎকার করা হয়েছিলো, ‘তখন তো আমি আরশের প্রতি দৃষ্টি দিতেই আরশের উপর দেখেছিলাম,
আল্লাহ্ তা‘আলার নিজের নামের সাথে ‘মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ্’ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নাম লপিবদ্ধ ছিলো। ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ’- কলেমা শরীফ লিখা ছিলো।’ হযরত আদম আলায়হিস সালাম-এর মনে এ ধারণা জন্মালো যে, ‘এ মহান ব্যক্তি মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয়ই আল্লাহ্র এতো প্রিয় যে, তাঁকে তাঁর (আল্লাহ্) নামের সাথে লিখেছেন।’ সুতরাং হযরত আদম আলায়হিস সালাম হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলা নিয়ে নিজের বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর (হযরত আদম-এরব্জ বিচ্যুতি ও ভুলকে ক্ষমা করলেন। তাঁর তাওবাহ্ কবূল করলেন। সুবহা-নাল্লাহ্! আমাদের আক্বা ও মাওলা হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর কী শান, কী মহত্ব!

হযরত আদম আলায়হিস সালামকে যে সাজদা করানো হয়েছিলো, তাও হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নূর মুবারককেই করানো হয়েছিলো।
তাঁর নিকট (কপালে) যে নূর মওজূদ ছিলো ওই নূরকেই (সম্মানের) সাজদাহ্ করিয়েছেন। অত:পর তাঁর থেকে বিচ্যুতি ও অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে গেলে তাঁর ওসীলায় সেটার ক্ষমাও করা হয়েছিলো, ভুলের ক্ষমা হলো। সুবাহা-নাল্লাহ্! আল্লাহ্র এ কেমন বদান্যতা!
আর আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেনÑ
‘এবং যদি এ সব লোক নিজেদের আত্মার প্রতি অবিচার করে, আর তারা, হে হাবীব, আপনার দরবারে আসে, অতঃপর আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে আর রসূল-ই পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামও আল্লাহ্র কাছে তাদের ক্ষমার জন্য সুপারিশ করেন, তবে তারা আল্লাহকে অত্যন্ত তাওবা ক্ববূলকারী ও দয়াবান পাবে।’

ক্বিস্সা খতম। ইতোপূর্বেও বলা হয়েছে যে, হযরত আদম আলায়হিস সালামকে (ফেরেশতাদের দ্বারা) যে সাজদা করানো হয়, তাও হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামা-এর বদৌলইে।
হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম-এর বিচ্যুতির ক্ষমাও হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলায় হয়েছিলো। এরপর এ বদান্যতার দরজা উম¥ুক্ত হলো। তা আর কখনো বন্ধ হয়নি।

কারো দ্বারা যদি কখনো কোন অন্যায়, ভুল-ক্রটি বা গুনাহ্ হয়ে যায়, তবে সে যেন তৎক্ষণাৎ নিজের আক্বা ও মাওলা হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মনোনিবেশ করে। এমন নয় যে, মদীনা মুনাওয়ারায় চলে যেতে হবে; বরং আল্লাহ্র অনুগ্রহক্রমে এটাও যথেষ্ট হবে যে, কারো দ্বারা যদি কোন প্রকারের গুনাহ্ হয়ে যায়, তবে সে যেন দু’ রাক‘আত নফল নামায পড়ে হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মনোনিবেশ করে এবং তাঁর দরবারে এভাবে আরয করে, “হুযূর! আমার ক্ষমার জন্য আল্লাহ্র দরবারে সুপারিশ করুন!” আর হুযূর করীমও তার পক্ষে সুপারিশ করেন। তাহলে অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেবেন। সুবহা-নাল্লাহ্! রাহ্মাতুল্লিল ‘আ-লামীন সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর এ কী মহা মর্যাদা!

(একদা) হযরত শীস আলায়হিস সালামকে হযরত আদম আলায়হিস সালাম উপদেশ দিলেন, “প্রিয় বৎস! যদি তোমার থেকে কোন প্রকারের ভুল বা ত্রুটি হয়ে যায়, তাহলে তখনই হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যম নিয়ে আল্লাহ্র কাছে ওই ক্রটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিও।”

তখন হযরত শীষ আলায়হিস সালাম আরয করলেন, “আব্বাজান, তিনি কে?” তখন হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম বললেন, “তিনি আমার বংশধর; তবে তাঁর অনেক অনেক উঁচু মর্যাদা; আমার বিচ্যুতি তাঁর কারণে ক্ষমা হয়েছে। তাই তোমার থেকেও যদি কখনে কোন ধরনের ক্রটি-বিচ্যুতি সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে তাঁর ওসীলা নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করিও।”

(হযরত শীস আলায়হিস সালাম বললেন,) “এরপর যখন আমার কোন ধরনের ভুল-ত্রুটি হয়ে যেতো, তখনই আমি হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলা নিয়ে আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। এতে আমার দো‘আ ক্ববূল হয়ে যায়।”

এখানে (আয়াতে) আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করছেন, হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দরজা হচ্ছে আমাদের গুনাহ্র ক্ষমা হওয়ার দরজা। এ দরজা দিয়ে এসো, যাতে তোমাদের গুনাহর ক্ষমা হয়ে যায়। কিন্তু বাতিল ফিরক্বার লোকেরা কতই মূর্খতার মধ্যে আছে! তারা কতই হতভাগা যে, তারা ওই দরজা থেকে লোকদের দূরে সরিয়ে রাখে। তারা বলে, ‘‘এ দরজা দিয়ে যেয়ো না।’’ উম্মতের জন্য এটা বড় বিপজ্জনক। অতএব, তোমরা এ দরজার পরিচয় লাভ করো এবং এ দরজার চৌকাঠকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। এ দরজাই উভয় জগতের সাফল্যের চাবিকাঠি।
আর আপনাদের এ সিল্সিলাহ্ (তরীক্বাহ্), যে সিলসিলায় আপনারা আছেন, এ সিলসিলার উদ্দেশ্যও এটাই যে, এটা দ্বারা আমাদের স্ব স্ব গন্তব্যস্থলে অর্থাৎ হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-পর্যন্ত পৌঁছানো।

আর এ যাত্রাপথে নানা ধরনের লোক রয়েছে। এ পথে ডাকাতও রয়েছে। ইনশা-আল্লাহুল আযীয, যখন আমাদের সুদৃঢ় ইচ্ছা থাকবে, নিষ্ঠা ও ভালবাসা থাকবে, তখন আমরা এ কাফেলার সাথে থাকবোই।

যখন কোন কাফেলার সাথে পাহারাদার ও সৈন্য বাহিনী মোতায়েন থাকে, তখনতো সেটার উপর কেউ হামলা করতে এ ভেবে ভয় পাবে যে, ‘সবাই ধরা পড়ে যাবো যদি আমরা হামলা করি।’

আলহামদুলিল্লাহ্! আমাদের এ কাফেলায় সায়্যিদুনা আব্দুল ক্বাদির জীলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু রয়েছেন, শাহানশাহে চৌহরভী ও শাহান শাহে সিরিকোটী সাথে আছেন। আমাদের ভয় করার কোন কারণ নেই। তবে আমাদের উচিত তাঁদের (আর্দশ ও নীতি)কে ভালোভাবে আকঁড়ে ধরা এবং তাঁদের অনুসরণ করে চলা। আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাদেরকে এবং আমাদেরকে বুঝার তাওফীক্ব দিন। আ-মী-ন।

আজ দু’বছর পর আপনাদের মধ্যে উপস্থিত হবার সামর্থ্য আল্লাহ্ তা‘আলা দিয়েছেন। এ বিরাট সমাগম ও তরীক্বতের এ বাগান দেখে অত্যন্ত খুশী ও প্রশান্তি অনুভব করছি। আমাদের ও আপনাদের মধ্যেকার যে সম্পর্ক ও ঘনিষ্টতা রয়েছে, তাও হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর কারণে ও তাঁরই মাধ্যমে।
আমাদের ও আপনাদের মধ্যে যে আত্মিক বন্ধন রয়েছে, যে সম্পর্ক রয়েছে, তাও রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মহান ওসীলায় প্রতিষ্ঠিত।
এটাও স্মরণ রাখবেন যে, আমাদের এ সিলসিলার (শিকলের) শেষ কড়া হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র হাতে রয়েছে। মাশা-ইখ হযরাতের মাধ্যমে আপনাদের নিকট এ সিলসিলা পৌঁছেছে। অতএব, এ সিলসিলার আদর্শকে মজবুতভাবে ধারণ করুন। সিলসিলাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং সমস্ত মাশা-ইখ হযরাতের ফুয়ূয়াত ও বরকতরাজি লাভ করে ধন্য হওয়া যাবে। হৃদয়গুলো আলোকিত হবে। আপনাদের বক্ষ আলোকোজ্জ্বল হবে। আপনাদের কাজে বরকত হবে। আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে। অতএব, সিলসিলাকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরুন। যে এটাকে আঁকড়ে ধরবে, সে এ সিলসিলার সমস্ত মাশা-ইখে কেরাম-এর সান্নিধ্য অর্জন করবে।
ওই ব্যক্তি কতোই সৌভাগ্যবান, যিনি মাশা-ইখে কেরামের সান্নিধ্য অর্জন করেছেন। আর  তিনি হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শুভ দৃষ্টির আওতায় চলে এসেছেন ।

আপনাদের প্রতি এ আরয করবো যে, সিলসিলার ভাইদের মধ্যে একতা ও পরস্পর ভালবাসা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। আপনাদের পেছনে ইবলীস শয়তান লেগে আছে; আর শয়তান জঘন্য শক্র। বাতিল ফিরকার লোকেরাও আপনাদের পেছনে লেগে আছে। ইবলীস ও বাতিলদের কাছে আপনারা যেন বিষতুল্য কাঁটা। তাদের চোখে আপনারা বড় বিপদই। এ জন্য ভাইদের অত্যন্ত সজাগ হওয়া চাই এবং পরস্পরের প্রতি ভালবাসা ও সকলে একতাবদ্ধ থাকা চাই। কেননা অনৈক্যে মানুষের মর্যাদা বিনষ্ট হয়। আর আপনাদের অনৈক্যের দরুন হযরতদের বদ্নাম হতে পারে। তখন এটা কতই দুঃখের ব্যাপার হবে যে, আমাদের কারণে আমাদের মাশা-ইখে কেরামের বদনাম হবে!
এজন্য ভাইদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং ভাইদের পরস্পরের ভালবাসা অত্যন্ত প্রয়োজন। সে সাথে প্রয়োজন বাতিল ফিরকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা।
আপনাদের সামনে মাদ্রাসাগুলো রয়েছে। মাদ্রাসার সুষ্ঠু পরিচালনা ও শিক্ষা-দীক্ষার প্রতি দৃষ্টি রাখা দরকার। কেননা, মাদ্রাসাগুলো হচ্ছে আলেম তৈরীর কারখানা। এখান হতে আলেম বের হবে। তাঁরা দ্বীনের সংরক্ষণের সিপাহ্সালার হবেনÑ ইন্শা-আল্লা-হুল আযীয, এ জন্য জরুরী হচ্ছে (এ সবের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য) পরস্পরের ভালবাসা ও একতা থাকা।
((এবং পরস্পরের মধ্যে বিবাদ করোনা। করলে পুনরায় সাহস হারাবে, এবং তোমাদের সঞ্চিত বায়ু বিলুপ্ত হতে থাকবে।))
[সূরা আন্ফাল: আয়াত-৪৬] অর্থাৎ তোমাদের অনৈক্যের দরুন তোমাদের যে মর্যাদা ও সম্মান আছে তা’ লোপ পাবে। আপনারা ভাগ্যবান, আপনাদেরকে মুবারকবাদ জানাই আর এটার আপনারা উপযুক্তও। তা এ জন্য যে, আপনাদেরকে আল্লাহ্ তা‘আলা সত্য ও সঠিক পথ- প্রদর্শক ও মুরশিদ-ই বরহক দান করেছেন। সঠিক ও বিশুদ্ধ মুরশিদ পাওয়া গেলে হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে পাওয়া যায়।
সে সাথে গর্ব ও অহংকার থেকেও বেঁচে থাকবেন। কেননা, শয়তানের শেষ হাতিয়ার হলো গর্ব ও অহংকারবোধ। নিজেকে বিলীন করে দাও। কবি বলেনÑ
যদি কোন মর্যাদা চাও, তবে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে দাও। কারণ, এ শস্যবীজ মাটিতে বিলীন হবার ফলেই তা থেকে উদ্ভিদ জন্মে সবুজ-সজীব বাগান সৃষ্টি হয়ে যায়।
কথিত আছে যে, যার যতো উচ্চ মর্যাদা হবে তার মাথা যেন ততো অবনত থাকে। সে যেন সেবক হয়।
আর নিজের ভাইদের প্রতি ভালবাসা থাকা ও পরস্পরের মধ্যে একতা থাকাও অত্যন্ত প্রয়োজন।

আজ আমি খুবই আনন্দিত। আমার সকল চিন্তা দূরীভুত হয়ে গেছে। আর এটা তরীক্বতের সকল ভাইদের ভালবাসার ফলশ্রুতি যে, এ বার্ধক্য অবস্থায়ও আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে।
আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাদেরকে উভয় জগতের সফলতা দান করুন।
আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের ও আপনাদের মধ্যেকার যে সম্পর্ক রয়েছে, যে আত্মিক সম্পর্কের বন্ধন রয়েছে, হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলায় এ সম্পর্ককে ক্বিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী রাখুন!
আ-মী-ন।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •